যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০

১৯৮০ সনের ৩৫ নং আইন

যেহেতু বিবাহের যৌতুক আদান-প্রদান নিরোধ করিয়া আইন প্রণয়ন করা যুক্তিযুক্ত

ধারা ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম এবং বলবr হওয়ার তারিখঃ

১) এই আইনকে যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০ বলা হইবে।

২) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখে নির্ধারণ করিবেন সেই তারিখ হইতে ইহা বলবৎ হইবে।

ধারা ২। সংজ্ঞা

এই বিষয়ে বা প্রসঙ্গে যদি না বিরোধী কিছু থাকে, তাহা হইলে এই আইনে যৌতুক অর্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দিতে সম্মত হওয়া কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত-

ক) বিবাহের এক পক্ষের দ্বারা বিবাহের অপর পক্ষের প্রতি, অথবা

খ) বিবাহের সময় বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যে কোন সময় উক্ত পক্ষগণের বিবাহের প্রতিদান হিসাবে বিবাহের যে কোন পক্ষের মাতা-পিতা দ্বারা বা অপর কোন ব্যক্তির প্রতি, কিন্তু যে ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রযোজ্য তাহাদের ক্ষেত্রে যৌতুক বা মোহর অন্তভূক্ত করে না।

ধারা ৩। যৌতুক আদান-প্রদান জন্য শাস্তিঃ

এই আইনের কার্যকারিতা শুরু হইবার পর হইতে যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান করে কিংবা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে সহায়তা করে তাহা হইলে সেই ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে এবং এক বছরের কম মেয়াদের নহে, অথবা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

ধারা ৪। যৌতুক দাবির শাস্তিঃ

এই আইনের কার্যকারিতা শুরু হইবার পর হইতে যদি কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতা বা অভিভাবকের নিকট হইতে যৌতুক দাবি করে, তাহা হইলে সে পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে এবং এক বছরের কম মেয়াদের নহে, অথবা কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

ধারা ৫। যৌতুক আদান বা প্রদানের চুক্তি অবৈধ হইবেঃ

যৌতুক আদান বা প্রদানের যে কোন প্রকার চুক্তি অবৈধ হইবে।

ধারা ৬। [১৯৮৪ সালের ৬৪ অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হয়েছে]

ধারা ৭। অপরাধ আমলে লওয়া

১৮৯৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধিতে (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন) যাহাই থাকুক না কেন-

ক) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নতর কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার করিতে পারিবেন না;

খ) অপরাধের তারিখ হইতে এক বrসরের মধ্যে অভিযোগ আনায়ন করা ব্যতীত কোন আদালত এইরূপ অপরাধ আমলে আনিবেন না;

গ) এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য দণ্ডাদেশ দেওয়া কোন ব্যক্তিকে এই আইনে অনুমোদিত যে কোন শাস্তি মঞ্জুর করা একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে আইনসংগত হইবে।

ধারা ৮। অপরাধসমূহ আমলে অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং মীমাংসাযোগ্যঃ

এই আইনের অধীন প্রত্যেকটি অপরাধ আমল অযোগ্য জামিন অযোগ্য এবং মীমাংসাযোগ্য হইবে।

ধারা ৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতাঃ

১) এই আইনের উদ্দেশ্যে সম্পাদন করিবারজন্য সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিবেন।

২) এই ধারার অধীন প্রণীত প্রত্যেকটি বিধি প্রণয়নের পর পরই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করিতে হইবে এবং যে সেশনে উপস্থাপিত হইয়াছে উহা শেষ হইবার আগি যদি সংসদ বিধিতে সামান্য কোন পরিবর্তন করিতে সম্মত হন অথবা সম্মত হন যে, বিধি প্রণয়ন করা হইবে না তাহা হইলে অবস্থামত বিধিটি শুধু সেই পরিবর্তনরূপে কার্যকর থাকিবে অথবা উহার কার্যকারিতা থাকিবে না, তবে শর্ত থাকে যে, সেই বিধির অধীন পূর্বে কৃত কোন কিছুর বৈধতা ক্ষুন্ন না করিয়াই সেইরূপ সামান্ন পরিবর্তন বা নাকচকরণ হইবে।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প