মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইন, ১৯৭৪

 (১৯৭৪ সনের ৫২নং আইন)

মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইনসমূহ একত্রীকরণ ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন;

যেইহেতু মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইনসমূহ একত্রীকরণ ও সংশোধন যুক্তিযুক্তঃ

সেইহেতু, নিন্মলিখিত আইন প্রণয়ন করা হইলঃ

ধারা-১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগঃ

১) অত্র আইন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইন, ১৯৭৪ নামে গণ্য হইবে।

২) তাহারা যেখানে থাকুক না কেন বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে।

ধারা ২। সংজ্ঞা সমূহঃ

অত্র আইনে, প্রসঙ্গে বা বিষয়বস্তুতে বিরোধী কিছু না থাকিলে-

ক) ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন’ এবং রেজিস্ট্রার’ বলিতে যথাক্রমে ১৯০৮ সনের রেজিস্ট্রেশন আইন (১৯০৮ সনের ১৬নং আইন) অনুযায়ী উক্ত পদে মনোনীত ও নিযুক্ত অফিসারকে বুঝাইবে;

খ) নির্ধারিত’ বলিতে অত্র আইন অনুযায়ী প্রণীত বিধান দ্বারা নির্ধারিত বুঝাইবে;

ধারা-৩। বিবাহ রেজিস্ট্রীকরণঃ

কোন আইন, প্রথা কিংবা রীতিতে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিবাহ অত্র আইনের বিধান অনুযায়ী রেজিস্ট্রী করিতে হইবে।

ধারা-৪। নিকাশ রেজিস্ট্রীকরণঃ

অত্র আইনের আওতায় বিবাহসমূহ রেজিস্ট্রীকরণের উদ্দেশ্য সরকার “নিকাহ রেজিস্ট্রার” নামে সেইরূপ সংখ্যক লোককে লাইসেন্স প্রদান করিবেন যেইরূপ তত্কর্তৃক নির্ধারিত এলাকার জন্য প্রয়োজন মনে করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, অনধিক একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার যে কোন একটি এলাকার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইবেনঃ

আরও শর্ত থাকে যে, সরকার যখনই সঙ্গত মনে করেন, তখই যেই এলাকার জন্য কোন নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইয়াছেন, সেই এলাকার সীমানা বর্ধিত, কর্তিত বা অন্য কোন উপায়ে পরিবর্তন করিতে পারিবেন।

ধারা-৫। নিকাহ রেজিস্ট্রারগণ অনুষ্ঠিত বিবাহ সম্বন্ধে তাহাদের নিকট প্রতিবেদন পেশ করিতে হইবেঃ

১) নিকাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিবাহ অত্র আইনের অধীনে অনুযায়ী রেজিস্ট্রীকরণের ঐরূপ বিবাহ অনুষ্ঠিত করিয়াছেন এমন কোন লোক কর্তৃক তাহার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিতে হইবে।

২) কোন লোক ১উপ-ধারার বিধান অমান্য করিলে সেই লোক তিন মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য সময় বিনাশ্রম কারাদণ্ডে কিংবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানা কিংবা উভয় প্রকার সাজা ভোগের যোগ্য হইবে।

ধারা-৬। তালাক রেজিস্ট্রীকরণঃ

১) যেই লোক রেজিস্ট্রার তাহার এলাকার ভিতর মুসলিম আইন অনুযায়ী কার্যকরীকৃত তালাক রেজিস্ট্রীকরণের জন্য তাহার নিকট দাখিলকৃত দরখাস্তমূলে উহা রেজিস্ট্রী করিতে পারিবেন।

২) উক্ত তালাক রেজিস্ট্রীকরণের জন্য আবেদন উক্ত তালাক কার্যকর করিয়াছে এমন কোন লোক বা লোকগণ দ্বারা দায়েরকৃত হইতে হইবে;

তবে শর্ত থাকে যে, মহিলা পর্দানশীল হইলে উক্ত আবেদন তাহার যথারীতি ক্ষমতা প্রাপ্ত আইনজীবী পেশ করিতে পারেন।

৩) ১৯০৮ সনের রেজিস্ট্রেশন আইনের(১৯০৮ সনের ১৬নং আইন) অধীনে রেজিস্ট্রীকৃত যেই দলিলের মাধ্যমে স্বামী তাহার স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত বিষয় নিকাহ নিবন্ধন বই এ অন্তভূক্তির সত্যায়িত দাখিল করা ব্যতীত নিকাহ,রেজিস্ট্রার কোন তালাক-ই-তাওফিজ নামে গণ্য প্রকারের কোন তালাক রেজিস্ট্রী করিবেন না।

৪) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার কোন তালাক নিবন্ধন করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত রেজিস্ট্রীকরণের জন্য দরখাস্ত করিয়াছিল এমন কোন লোক বা লোকগন ঐরূপ অস্বীকৃতির ৩০ দিনের ভিতর রেজিস্টারের নিকট আপিল করিতে পারে ও ঐরূপ আপিলে রেজিস্টার প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বিবেচিত হইবে।

ধারা-৭। রেজিস্ট্রীকরণ পদ্ধতিঃ

নিকাহ রেজিস্ট্রার যেইরূপ নির্ধারণ করা হয়, সেইরূপ পদ্ধতিতে বিবাহ বা তালাক রেজিস্ট্রী করিবেন।

ধারা-৮। রেজিস্ট্রী বইঃ

প্রত্যেক নিকাহ রেজিস্ট্রার যথানির্ধারিতব্য ফরম বিবাহ এবং তালাকের ভিন্ন ভিন্ন রেজিস্ট্রী বই রাখিবেন ও ঐরূপ প্রতিটি রেজিস্ট্রী বই-এ প্রতি বত্সরের শুরুতে নূতন সারি আরম্বপূর্বক সকল ভূক্তি ক্রমিক সারিতে সংখ্যায়িত করিতে হইবে।

ধারা-৯। পক্ষসমূহকে অন্তভুক্তির নকল প্রদানঃ

যে-কোন বিবাহ বা তালাকের রেজিস্ট্রীকরণ সম্পন্ন হইবার পর, নিকাহ রেজিস্ট্রার সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে রেজিস্ট্রারে অন্তভূক্তির সত্যায়িত নকল প্রদান করিবেন এবং এই বাবদ কোন ফি আরোপিত হইবে না।

 

ধারা-১০। তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণঃ

১) প্রত্যক নিকাহ রেজিস্ট্রার তাহার অফিসার কর্তব্যাবলী রেজিস্ট্রারের তত্ত্ববধানে ও নিয়ন্ত্রণাধীনে পালন করিবেন।

২) মহানিবন্ধন পরিদর্শন সকল নিকাহ রেজিস্ট্রীকরণের অফিসের উপর সাধারণ তত্ত্ববধানে নিয়ন্ত্রণাধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

ধারা-১১। লাইসেন্স বাতিল ও বিলম্বকরণঃ

যেইক্ষেত্রে সরকার মনে করেন যে, নিকাহ রেজিস্ট্রার তাহার কার্যাবলী পালনের ক্ষেত্রে কোন অসদাচরণের জন্য দোষী বা তাহার কার্যাবলী পালনে অনুপযুক্ত কিংবা দৈহিকভাবে অসমর্থ সেইক্ষেত্রে সরকার লিখিত আদেশক্রমে তাহার লাইসেন্স বাতিল করিবেন বা আদেশের মাধ্যমে যেমন করা যাইতে পারে তেমন অনধিক দুই বত্সর কালের জন্য তাহার লাইসেন্স বিলম্বিত করিতে পারিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ঐরূপ আদেশ দেওয়া হইবে না উহার কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ না দিয়া ঐরূপ কোন আদেশ প্রদান করা হইবে না।

ধারা-১২। রেজিস্ট্রী বই এর-রক্ষনাবেক্ষণঃ

যতক্ষন না কোন রেজিস্ট্রার বই সম্পূর্ণ হয় প্রত্যেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ৮ ধারা অনুযায়ী তাহার দ্বারা রক্ষিত প্রতিটি রেজিস্ট্রী বই নিরাপদে রাখিবেন ও তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা ত্যাগ করিলে কিংবা লাইসেন্স ধারণ বন্ধ হইলে সেই সময় বা তত্পূর্ব নিরাপদ রক্ষণের জন্য রেজিস্ট্রারের নিকট উহা হস্তান্তর করিতে হইবে।

ধারা-১৩। রেজিস্ট্রী বই সমূহ পরিদর্শনঃ

কোন লোক নির্ধারিত ফি, যদি ধার্য থাকে, প্রদান করিলে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে রক্ষিত কোন রেজিস্ট্রার বই পরিদর্শন করিতে পারে বা উক্ত নিবন্ধন বই কোন ভূক্তির প্রতিলিপি পাইতে পারে।

ধারা-১৪। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতাঃ

১) সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের দ্বারা, অত্র আইনের উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

২) বিশেষ করিয়া এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সাধারণত্বেও হানি না করিয়া উক্ত বিধিমালায় নিম্নোক্ত বিষয়ের বিধিনাবলী থাকিতে পারে-

ক) যেই লোকদেরকে ৪ ধারার অধীনে লাইসেন্স মঞ্জুর করা যাইতে পারে তাহাদের জন্য অবশ্যকীয় যোগ্যতা সম্পর্কে;

খ) বিবাহ বা তালাক রেজিস্ট্রীকরণের জন্য বিবাহ রেজিস্ট্রারকে প্রদেয় ফি সম্পর্কে;

গ) বিধি প্রণয়ন আবশ্যক, এমন অন্য যে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান করিতে পারেন। 

ধারা-১৫। ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১৯৬১ সনের ৮নং আইন) সংশোধনঃ

১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১৯৬১ সনের ৮নং আইন)

ক) ৩ ধারার (১) উপধারায় কমা ও শব্দসমূহ, “এবং মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রীকরণ কেবলমাত্র ঐ সমস্ত বিধানাবলী অনুসারে অনুষ্ঠিত হইবে” বাদ যাইবে;

খ) ৫ ধারা বাদ যাইবে;

গ) ৬ ধারার (১) উপধারায় “এই অধ্যাদেশের অধীনে” শব্দসমূহের পরিবর্তে ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইনের (১৯৭৪ সনের ৫২নং আইন) অধীনে” শব্দসমূহ, কমা, অংক ও বন্ধনী বসিবে।

ধারা-১৬। বাতিলঃ

১৯৭৬ সনের মুসলিম তালাক রেজিস্ট্রীকরণ আইন (১৯৭৬ সনের ১নং বঙ্গীয় আইন) এতদ্দ্বারা বাতিল করা হইল।

ধারা-১৭। বিদ্যমান নিকাহ নিবন্ধকগণ সম্পর্কিত বিধানঃ

অত্র আইনের আরম্ভের পূর্ব ১৯৬১ সনে মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশের (১৯৬১ সনের ৮নং আইন) অধীনে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত সমস্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারগণ অত্র আইনের আওতায় নিকাহ রেজিস্ট্রারগণ অত্র আইনের আওতায় নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসাবে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প