ভরণপোষণ (মুসলিম আইন)

ভরণপোষণ কি?

উত্তর: মুসলিম আইনে ভরণপোষণ বলতে অন্য, বস্ত্র ও বাসস্থানকে বুঝায়।

মুসলিম আইনে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদানে স্বামীর বাধ্যবাধকতা গুলো কি কি?

উত্তর: একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ প্রদানে আইনগতভাবে বাধ্য। স্ত্রী নিজে যতই ধনী হোকনা কেন স্বামীর নিকট থেকে সে ভরণপোষণ পাবার আইনগত অধিকারী। কিংবা স্বামী দরিদ্র হলেও স্ত্রীর ভরণপোষণ পাবার অধিকার অস্বীকার করা যাবেনা। আইন সঙ্গত কারণ ছাড়া একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেন তাহলে স্ত্রী তার জন্য মামলা করতে পারবে।

যে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে পৃথক বসবাস করে তার ভরণপোষণ প্রদানে কি স্বামী বাধ্য?

উত্তর: বিয়ের পর স্বামী গৃহে বসবাস করে দাম্পত্য কর্তব্য পালন করা স্ত্রীর দায়িত্ব। আইন সঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর নিকট থেকে আলাদা বসবাসকারী স্ত্রী সাধারণত: ভরণপোষণের অধিকারী নন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যে সমস্ত বিষয়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে আলাদা বসবাস করলেও তার কাছ থেকে ভরণপোষণ পেতে পারেন। যেমন,

(১) যদি স্ত্রী স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে গৃহত্যাগে এবং অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হন।

(২) স্বামী স্ত্রীকে অবহেলা করলে এবং তাকে বাড়ীতে নিতে অস্বীকার করলে, পৃথক থাকা অবস্থায়েও স্বামীর নিকট থেকে স্ত্রী ভরণপোষণ নিতে পারেন।

(৩) স্বামী যদি অনৈতিকভাবে বাড়ীতে উপপত্নী রাখেন এবং সেকারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে পৃথক বসবাস করলেও ভরণপোষণ দাবী করতে পারবে। তবে স্বামী ২য় স্ত্রী গ্রহণ করলে এবং সেকারণে যদি প্রথম স্ত্রী পৃথক বসবাস করেন তবে তিনি ভরণপোষণ লাভের অধিকারী হবেন না।

(৪) স্বামী যদি সুদীর্ঘকাল স্ত্রীর নিকট থেকে দূরে থাকেন তবে সেক্ষেত্রে পৃথক থাকলেও স্ত্রী ভরণপোষণ দাবী করতে পারেন।

(৫) স্বামী যদি তলবীমোহর (Prompt dower) পরিশোধ না করার কারণে স্ত্রী আলাদাভাবে বসবাস করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি ভরণপোষণ প্রদানে স্বামীকে বাধ্য করতে পারেন।

(৬) স্ত্রী যদি তার আইনগত অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে স্বামীর নিকট থেকে পৃথক বসবাস করেন সেক্ষেত্রে পৃথক থাকলেও স্ত্রী ভরণপোষণ দাবী করতে পারেন। (৭) স্বামী যদি ২য় বিবাহের সময় ১ম স্ত্রীর সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন যে, ২য় স্ত্রীর সাথে ১ম স্ত্রী বনিবনা না হলে ১ম স্ত্রী পৃথক বসবাস করবেন; তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে স্বামী ১ম স্ত্রীকে ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য থাকেন।

(৮) স্বামী যদি ২য় বিবাহের সময় ২য় স্ত্রীর সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন যে, ২য় স্ত্রীর সাথে ১ম স্ত্রী বনিবনা না হলে ২য় স্ত্রী পৃথক বসবাস করবেন; তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে স্বামী ২য় স্ত্রীকে ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য থাকেন।

(৯) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি এরূপ চুক্তি হয় যে, পরষ্পরের মতের অমিল হলে তারা পৃথক বসবাস করবেন সেক্ষেত্রেও স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য থাকেন।

কোন স্ত্রী অতীত সময়ের ভরণপোষণ দাবী করতে পারেন কিনা?

উত্তর: স্বামী ভরণপোষণ প্রদানে অবহেলা করলে স্ত্রী ভরণপোষণ দাবী করতে পারে। তবে কোন সুনির্দিষ্ট চুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত না হলে স্ত্রী অতীত ভরণপোষন দাবী করতে পারেন না। তবে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হলে এবং স্ত্রী তালাকের খবর না জানলে ঐ সময়ের জন্য স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে অতীত সময়ের জন্য ভরণপোষণ দাবী করতে পারে। তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায় চলে গেলে এবং স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে স্বামী অতীত কালের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন।

সন্তানদের ভরণপোষণ প্রদানে পিতার বাধ্যবাধকতাগুলো কিকি?

উত্তর: যতদিন পর্যন্ত পুত্ররা সাবালক না হন এবং কন্যাগণ বিবাহিত না হন ততদিন পিতা তাদের ভরণপোষণ প্রদানে আইনত বাধ্য। তবে সাবালক পুত্র যদি রোগগ্রস্থ বা সামর্থহীন হন সেক্ষেত্রে পিতা তাদের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। তবে যে শিশু তার নিজস্ব সম্পত্তির আয় হতে নিজের ভরণপোষণ করতে সক্ষম সেই শিশুর ভরণপোষণ দিতে পিতা বাধ্য নন।

পিতা মাতার ভরণপোষণে সন্তানদের বাধ্যবাধকতাগুলো কিকি?

উত্তর: স্বচ্ছল বা অস্বচ্ছল যাই হোক না কেন সন্তানরা পিতা-মাতার ভরণপোষণে বাধ্য। ছেলে অস্বচ্ছল হলেও আয় করতে পারেন না এরূপ পিতা-মাতার ভরণপোষণে বাধ্য। গরিব মাতাকে ভরণপোষণ দিতে অভাবগ্রস্থ পুত্র বাধ্য।

বিমাতার ভরণপোষণ প্রদানে সন্তান কি বাধ্য?

উত্তর: যদি কোন সন্তান স্বচ্ছল অবস্থায় থাকে এবং তার পিতা অভাবগ্রস্থ হয় তবে সেক্ষেত্রে বিমাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব সন্তানের উপর ন্যস্ত হয়। 

 

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প