বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯

[১৯২৯ সনের ১৯নং আইন]

১লা অক্টোবর, ১৯২৯

যেইহেতু বাল্য বিবাহ রিরোধ করা সমীচীন, সেইহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইলঃ

ধারা ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, আওতা ও প্রারম্ভঃ

ক) এই আইন বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ নামে অভিহিত হইবে।

খ) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে এবং যেখানেই অবস্থান করুন না কেন বাংলাদেশের সকল নাগরিকের উপর ইহা প্রযোজ্য হইবে।

গ) ইহা ১৯৩০ সনের ১লা এপ্রিল হইতে বলব হইবে।

ধারা ২। সংজ্ঞাঃ

বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

ক) শিশু বলিতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝাইবে যাহার বয়স পুরুষ হইলে একুশ বৎসর কম এবং নারী হইলে আঠার বৎসরের কম;

খ) বাল্য বিবাহ বলিতে সেই বিবাহকে বুঝায় যাহাতে সম্পর্ক স্থাপনকারী পক্ষদ্বয়ের যেকোন একজন শিশু।

গ) বিবাহের চুক্তিবদ্ধ পক্ষ বলিতে যে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হইয়াছে বা হওয়া অত্যাসন্ন এমন যেকোন এক পক্ষকে বুঝাইবে।

ক) নাবালক বলিতে পুরুষের ক্ষেএে একুশ বৎসরের কম এবং নারীর ক্ষেএে আঠার বৎসরের কম যেকোন ব্যক্তিকে বুঝাইবে ।

খ) “নাবালক” বলিতে পুরুষের ক্ষেত্রে একুশ বৎসরের কম এবং নারীর ক্ষেত্রে আঠার বৎসরের কম যেকোন ব্যক্তিকে বুঝাইবে।

গ) “সিটি কর্পোরেশন” বলিতে ১৯৮২ সনের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ(১৯৮২ সনের ৩৫নং অধ্যাদেশ) বা ১৯৮৩ সনের ঢাকা সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ(১৯৮৩ সনের ৪০নং অধ্যাদেশ) বা ১৯৮৪ সনের খুলনা সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ(১৯৮৪ সনের ৭২নং অধ্যাদেশ) এর অধীনে গঠিত সিটি করপোরেশনকে বুঝাইবে যাহার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হইয়াছে বা হওয়ার অত্যাসন্ন;

ঘ) “পৌরসভা” বলিতে ১৯৭৭ সনের পৌরসভা অধ্যাদেশের (১৯৭৭ সনের ২৬নং অধ্যাদেশ) অধীন গঠিত পৌরসভা বুঝায় যাহার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হইয়াছে বা হওয়ার অত্যাসন্ন;

ঙ) “ইউনিয়ন পরিষদ” বলিতে ১৯৮৩ সনের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সনের ৫১নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক গঠিত ইউনিয়ন পরিষদ বুঝায় যাহার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হইয়াছে বা হওয়ার অত্যাসন্ন।

ধারা ৩। [১৯৮৪ সনের ৩৮নং অধ্যাদেশের ৩ধারা দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে]

ধারা ৪। শিশু বিবাহকারী একুশ বত্সর বয়োসার্ধ্ব সাবালক পুরুষ অথবা আঠারো বত্সর বয়োসার্ধ্ব সাবালিকা নারীর শাস্তিঃ

যে কেহ, একুশ বত্সর বয়োসার্ধ্ব সাবালক পুরুষ অথবা আঠারো বত্সর বয়োসার্ধ্ব সাবালিকা নারীর কোন বাল্য বিবাহের চুক্তি করিলে, সে একমাস পর্যন্ত বিনাশ্রমে কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

ধারা ৫। বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করিবার শাস্তিঃ

কোন ব্যক্তি কোন বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা করিলে সে একমাস পর্যন্ত মেয়াদী বিনাশ্রমে কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। যদি না সে প্রমান করিতে পারে, বিবাহ ছিল না বলিয়া বিশ্বাস করিবার মত কারণ ছিল।

ধারা ৬। বাল্য বিবাহ সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতা বা অভিভাবকের শাস্তিঃ

১) যেইক্ষেত্রে কোন নাবালক কোন বাল্য বিবাহ চুক্তি করে। সেইক্ষেত্রে ঐ নাবালকের ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তি, পিতা-মাতা হউক বা অন্য বা অন কোন সমর্থক হউক, আইনসঙ্গত হউক বা বেআইনী হউক যদি উক্ত বিবাহে উrসাহ প্রদানের কোন কাজ করেন, অথবা উহা অনুষ্ঠিত হওয়া হইতে নিবারণ করিতে অবহেলার দরুন ব্যর্থ হন,তিনি একমাস পর্যন্ত মেয়াদের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে; শর্ত থাকে যে, কোন মহিলাকে কারাদণ্ড প্রদান করা যাবে না।

২) এই ধারার নিমিত্তে, যেক্ষেত্রে কোন নাবালক বাল্য বিবাহের চুক্তিবদ্ধ হয় সেইক্ষেত্রে বিপরীত প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত, উক্ত নাবালকের উপর কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তি নিজ গাফলতির কারণে বিবাহটি নিবৃত্ত করিতে ব্যর্থ হইয়াছে বলিয়া অনুমিত হইবে।

ধারা ৭। ধারার অধীনে অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ভোগ করিতে হইবে নাঃ

১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস আইনের ২৫ধারা বা দণ্ডবিধির ৬৪ ধারায় অন্তর্ভুক্ত যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও, ৩নং ধারার অধীনের কোন অপরাধীকে দণ্ডদানকারী আদালত এইমর্মে নির্দেশ দান করিবেন না যে, আরোপিত জরিমানা অনাদায়ে তাহাকে যেকোন মেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করিতে হইবে।

ধারা ৮। এই আইন মোতাবেক এখতিয়ারঃ

১৮৯৮ সারের ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯০ ধারায় অন্তর্ভুক্ত যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও, প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ আমলে লইতে বা উহার বিচার করিতে পারিবেন না।

ধারা ৯। অপরাধসমূহ আমলে লওয়ার পদ্ধতিঃ

কোন আদালতই ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক অথবা যদি উক্ত এলাকায় কোন ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন না থাকে, তাহা হইলে সরকার এতদপক্ষে নির্ধারণ করিতে পারেন এমন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আনীত অভিযোগের ভিত্তি ব্যতীত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়ছে বলিয়া কথিত হয়, সেই তারিখ হইতে এক বত্সর অতিবাহিত হওয়ার পর করা হইবে না।

ধারা ১০। এই আইনের আওতাধীন অপরাধ সম্পর্কে প্রাথমিক অনুসন্ধানঃ

এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারার্থ অধিগ্রহণকারী আদালত ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ২০৩ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খারিজ না করিলে, প্রথম শ্রেনীর ম্যজিস্ট্রেটকে উক্ত অনুসন্ধান করিতে নির্দেশ দিবেন।

ধারা ১১। [১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ১২(৫) দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে]

ধারা ১২। এই আইন লংঘনক্রমে অনুষ্ঠিতব্য বিবাহ রহিত করণার্থ নিষেধাজ্ঞা জারি ক্ষমতাঃ

১) এই আইনের অন্তগত বিপরীত কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও, আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ বা অন্য কোন উপায়ে প্রাপ্য তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে যদি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, এই আইন লংঘনক্রমে কোন বাল্য বিবাহের ব্যবস্থা হইয়ছে বা উহার অনুষ্ঠান অত্যাসন্ন প্রায়, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্ত বিবাহ নিষিদ্ধ করিয়া এই আইনের ৩,৪,৫ ও ৬ ধারায় উল্লেখিত যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করিতে পারেন।

২) উপ-ধারা (১) মোতাবেক কো নিষেধাজ্ঞা আদালত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি করা যাইবে না আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পূর্বাহ্নে নোটিশ প্রদানকরতঃ তাহকে নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার সুযোগ দান করে।

৩) আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া বা সংক্ষুদ্ধ ব্রক্তির আবেদনক্রমে (১) উপধারা মতে, প্রদত্ত যেকোন হুকুম প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করিতে পারেন।

৪) এই জাতীয় কোন আবেদন প্রাপ্ত হইলে, আদালত আবেদনকারীকে স্বয়ং বা উকিলের মাধ্যমে উহার সমীপে হাজির হওয়ার স্বতঃ সুযোগ প্রদান করিবেন এবং আদালত যদি আবেদনপত্র সামগ্রিক বা অংশিক নাকচ করেন,তাহা হইলে ঐরূপ করিবার কারণ লিপিবদ্ধ করিবেন।

৫) এই ধারার (১) উপধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হইয়াছে জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও, সেই ব্যক্তি আইন অমান্য করিলে তিনমাস পর্যন্ত মেয়াদী কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে শর্ত থাকে যে, কোন মহিলাকে কারাদণ্ড প্রদান করা যাবে না।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প