পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫

[১৯৮৫ সালের ১৮ নং আইন]

পারিবারিক আদালত গঠনের ব্যবস্থাকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, যেহেতু পারিবারিক আদালত স্থাপন এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন; সেহেতু ১৯৮২ সনের ২৪শে মার্চের ফরমান অনুসারে ও এই সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে সক্ষমকারী সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগক্রমে তিনি নিম্নোক্ত অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিতে মর্জি করিয়াছেন:

ধারা ১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, আওতা এবং প্রবর্তন:

 (১) অত্র অধ্যাদেশ "পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫" নামে অভিহিত হইবে ৷

 (২) ইহা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহ ব্যতীত সমস্ত বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে ৷

 (৩) সরকার সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যে তারিখ ধার্য্য করিবে সেই তারিখ হইতে ইহা কার্যকর হইবে ৷

ধারা  ২৷ সংজ্ঞা সমূহ:

 (১) বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছুর অবর্তমানে, অত্র অধ্যাদেশে -

(ক) 'বিধি' (Code) বলিতে ১৯০৮ সনের দেওয়ানী কার্যবিধি (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন)-কে   বুঝাইবে৷

(খ) 'পারিবারিক আদালত' বলিতে অত্র অধ্যাদেশের অধীনে স্থাপিত পারিবারিক আদালতকে

(গ) 'নির্ধারিত' বলিতে অত্র অধ্যাদেশের অধীনে প্রণীত বিধিসমূহ কর্তৃক নির্ধারিত বুঝাইবে৷

 (২) সংজ্ঞায়িত নহে অথচ অত্র অধ্যাদেশে ব্যবহৃত এমন শব্দ এবং শব্দসমষ্টি যথাক্রমে বিধিতে উল্লেখিত শব্দ এবং শব্দসমষ্টির অনুরূপ অর্থবহ হইবে৷

ধারা  ৩৷ অন্যান্য আইনের উপর অত্র অধ্যাদেশের প্রাধান্য (কার্যকারিতা):

বর্তমান বলবত অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, অত্র অধ্যাদেশের বিধানসমূহ কার্যকর হইবে৷

ধারা  ৪৷ পারিবারিক আদালত স্থাপন:

 (১) যতগুলো সহকারী জজ আদালত আছে ততগুলো পারিবারিক আদালত থাকিবে৷

 (২) অত্র অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যসমূহ সাধনার্থে সকল সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে গণ্য হইবে৷

সকল সহকারী জজ পারিবারিক আদালতের বিচারক হইবেন৷

ধারা ৫৷ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (১৯৬১ সনের ৮নং অধ্যাদেশ)- এর বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন পারিবারিক আদালতের পাঁচটি বিষয়াদির সকল অথবা যেকোনটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে যেকোন মামলা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তি করার একক এখতিয়ার থাকবে ৷ বিষয়গুলো হলো:

(ক) বিবাহবিচ্ছেদ, (খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, (গ) মোহরানা, (ঘ) ভরণপোষণ ও (ঙ) সন্তান-সন্ততিগণের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান ৷

ধারা  ৬৷ মামলা দায়েরকরণ:

(১) এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালত আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে  -

    (ক) নালিশের কারণটি সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা

    (খ) পক্ষগণ বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ একসঙ্গে বসবাস করিয়াছিলেন৷

শর্ত থাকে যে, বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর অথবা ভরণপোষণের নিমিত্ত মামলার ক্ষেত্রে যে এলাকায় স্ত্রী সাধারণতঃ বসবাস করিতেছে সেই এলাকার আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে ৷

(২) যেক্ষেত্রে এখতিয়ারবিহীন কোন আদালত আরজি দাখিল করা হয় সেইক্ষেত্রে -

   (ক) আরজিটি যে আদালতে দাখিল করা উচিত ছিল সেই আদালতে উপস্থাপনের জন্য ফেরত দেওয়া হইবে;

  (খ) আরজি ফেরতদানকারী আদালত, তত্‍বরাবরে আরজি উপস্থাপনের ও ইহার প্রত্যর্পণের তারিখ, আরজি দাখিলকারী পক্ষের নাম ও প্রত্যর্পণের কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ আরজির উপর লিপিবদ্ধ করিবেন৷

(৩)  আরজিতে বিরোধ সম্বন্ধীয় প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকিবে ও একটি তফসিল অবশ্যই আরজির অন্তর্ভুক্ত থাকিবে যাহাতে আরজির সমর্থনে যে সকল সাক্ষীকে ডাকিতে ইচ্ছুক তাহাদের নাম ও ঠিকানাসমূহও থাকিবে৷

শর্ত থাকে যে, বাদী আদালতের অনুমতিক্রমে পরবর্তী যেকোন স্তরে যেকোন ডাকিতে পারে - যদি আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্তরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ সমীচীন মনে করেন ৷

(৪) আরজিতে নিম্নোক্ত বিবরণসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে; যথা:

    (ক) যেই আদালতে মামলা দায়ের করা হইল উহার নাম;

    (খ) বাদীর নাম, বর্ণনা এবং বাসস্থান;

    (গ) বিবাদীর নাম, বর্ণনা এবং বাসস্থান;

    (ঘ) যেক্ষেত্রে বাদী অথবা বিবাধী নাবালক কিংবা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত মর্মে বর্ণনা

   (ঙ) নালিশের কারণঘটিত তথ্যসমূহ ও যেই স্থানে এবং যেই তারিখ নালিশের কারণের উদ্ভব হইয়াছে সেই স্থান এবং তারিখ;

   (চ) আদালতের এখতিয়ার প্রদর্শনকারী তথ্যসমূহ;

   (ছ) বাদী কর্তৃক প্রার্থিত প্রতিকার ৷

(৫) বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলাধীন অথবা ক্ষমতা কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে তিনি আরজি উপস্থাপনকালে আদালত উহা পেশ করিবেন ও একই সঙ্গে উক্ত দলিল অথবা উহার অবিকল বা ফটোকৃত প্রতিলিপি আরজির সহিত নথিভুক্তির জন্য একটি লিস্টভুক্ত করিবেন ৷

(৬) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার স্বীয় দখল বা আয়ত্তাধীন এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলটি আরজির সহিত সংযোজন করণার্থে একটি ফিরিস্তিভুক্ত করতঃ সংশ্লিষ্ট দলিলটি কাহার দখলে অথবা আয়ত্তাধীনে রহিয়াছে তাহা বর্ণনা করিবেন ৷

(৭) মামলার বিবাদীগণের উপর জারি করার নিমিত্ত বিবাদীগণের সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক তফসিলসহ আরজির সত্যায়িত প্রতিলিপি এবং ৫ ও ৬ নং উপধারায় বর্ণিত দলিলের তালিকা দ্বিগুণ পরিমাণ আরজির সহিত থাকিবে ৷

(৮) নিম্নলিখিত কারণে আরজি অগ্রাহ্য বা নাকচ হইবে -

 (ক) ৭ উপধারা অনুযায়ী যেক্ষেত্রে আরজির সঙ্গে তফসিলও দেওয়া হয় ;

 (খ) যেক্ষেত্রে ৭(৫) ধারা অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিসের জন্য পোস্টাল খরচ পরিশোধ না   করা হয়;   (গ) যেক্ষেত্রে আরজি উপস্থাপনের সময় ২২ ধারা অনুযায়ী ফী পরিশোধ না করা হয়৷

(৯) যেক্ষেত্রে আরজি উপস্থাপনের সময় বাদী আদালতে কোন দলিল দাখিল করা উচিত অথবা উহা আরজির সহিত সংযুক্ত করার জন্য কোন লিস্টভুক্ত করা উচিত এবং যদি উহা উক্তরূপে দাখিল বা লিস্টভুক্ত না করা হয় তবে মামলার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা আর তাহার পক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না৷

 শর্ত থাকে যে, বিশেষ অবস্থা ব্যতীত আদালত ঐরূপ অনুমতি প্রদান করিবেন না ৷

ধারা  ৭৷ সমন ও নোটিসসমূহ ইস্যুকরণ:

(১) পারিবারিক আদালতে আরজি উপস্থাপন করা হইলে পর আদালত -

(ক) সাধারণভাবে অনধিক ত্রিশ দিনের মধ্যে বিবাদীর হাজির হওয়ার নিমিত্ত একটি তারিখ ধার্য্য করিবেন ;

(খ) বিবাদীর প্রতি নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়ার এবং উপস্থাপিত দাবির জবাব দানের নিমিত্ত সমন জারি করিবেন ;

(গ) বিবাদীর নিকট প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে মামলার নোটিস প্রেরণ করিবেন ৷

 (২) (১) ১নং উপধারা অনুযায়ী ইস্যুকৃত প্রত্যেকটি সমন ও প্রেরিত প্রত্যেকটি নোটিসের সহিত আরজির নকল এবং ৬(৫) ও ৬(৬) ধারায় বর্ণিত দলিলসমূহের তালিকাসমূহ সংযোজিত থাকিবে৷

(৩) ১নং উপধারার খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত সমন দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৫নং আদেশের ৯, ১০, ১১, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯-ক, ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ নং রুলসমূহে বর্ণিত উপায়ে জারি করা হইবে ; ও অনুরূপে জারিকৃত সমন বিবাদীর উপর যথোচিত জারি বলিয়া গণ্য হইবে৷

 (৪) ১ নং উপধারার গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত নোটিস বিবাদীর উপর যথোচিতভাবে জারিকৃত বলিয়া গণ্য হইবে যখন বিবাদী কর্তৃক স্বাক্ষরিত বলিয়া প্রকাশকারী প্রাপ্তি স্বীকার পত্রটি আদালত গৃহীত হয় বা আদালত নোটিস বহনকারী ডাকটি ডাক কর্মচারীর এই মমেᐂ লিখিত মন্তব্যসহ ফেরত পায় যে, বিবাদীর গ্রহণাথেᐂ প্রেরিত বহনকারী ডাকটি তত্‍বরাবরে অপᐂণ করিলে পর তিনি উহা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়াছেন৷

শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে নোটিসটি সঠিক ঠিকানাযুক্ত, ডাকমাশুল পরিশোধিত এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে যথোচিতভাবে প্রেরিত হইয়াছিল সেক্ষেত্রে নোটিস প্রেরণের তারিখ হইতে ত্রিশদিন অতিবাহিত হইলে পর প্রাপ্ত স্বীকারপত্রটি  হারাইলে বিপথে চালিত হইলে বা অন্যবিধ যেকোন কারণে উক্ত সময় মধ্যে আদালত ফেরত না আসিলেও উহা যথোচিতভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

(৫) ১ নং  উপধারার খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত সমন জারি খরচ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনে এইরূপ সমনের জারি খরচের সমান হইবে ও ১নং উপধারার গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত নোটিসের জন্য ডাক খরচ আরজি দাখিলকালে বাদী কর্তৃক প্রদত্ত হইবে৷

 সমন এবং নোটিস জারির উপায়: ইহা দুইভাবে জারি করা যাইবে:

(ক) বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি এবং (খ) ডাকযোগে পত্র প্রেরণ করিয়া নোটিস জারি৷

(ক) বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি : ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির পদ্ধতি দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৫নং আদেশের ৯-১৯ নিয়মে বর্ণিত আছে ৷ বিবাদী আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে বসবাস করিলে অথবা বিবাদী পক্ষে উক্ত এলাকায় সমন গ্রহণ করিবার মত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি থাকিলে আদালতের পদাতিক বাদীর খরচে তাহার উপর সমন জারি করিতে হইবে ৷ শুধু তাহাই নহে, একাধিক বিবাদী থাকিলে প্রত্যেকের উপর সমন জারি করিতে হইবে৷ সংশ্লিষ্ট মামলার বিবাদীকে না পাওয়া গেলেও তাহার পক্ষে সমন গ্রহণের মত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকিলে বিবাদীর সহিত বসবাসকারী এক পরিবারভুক্ত যেকোন সাবালক পুরুষ ব্যক্তির উপর বিবাদীর পক্ষে সমন জারি করা যাইতে পারে ৷ স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, পরিবারের কোন ভৃত্যকে পরিবারের লোক হিসাবে  গণ্য করা যাইবে না ৷

সমন জারিকারক সমন প্রদান করিবার সময় সমনের প্রাপ্তিস্বীকার স্বরূপ মূল সমনের উপর বিবাদীর বা তাহার প্রতিনিধির স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন ৷ উক্তরূপ স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে অথবা বিবাদীর বাসস্থানে উপস্থিত হইয়া সকল চেষ্টা সত্ত্বেও বিবাদীকে না পাওয়া গেলে অথবা যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে তাহার ফিরিবার সম্ভাবনা না থাকিলেও তাহার পক্ষে সমন গ্রহণের কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সহিত ও সাক্ষাত্‍ না পাওয়া গেলে, জারিকারক যে গৃহে বিবাদী সাধারণতঃ বসবাস করে অথবা ব্যবসা করে সেই গৃহের বহির্দ্বারে অথবা গৃহের অন্য কোন প্রকাশ্য অংশে সমন লটকাইয়া জারি করিতে পারেন ৷ এইক্ষেত্রে যেই ব্যক্তি উক্ত গৃহ শনাক্ত করিয়াছে ও যাহাদের উপস্থিতিতে এইরূপভাবে সমন জারি করা হইয়াছে তাহাদের নাম ও ঠিকানা মূল সমনের পৃষ্ঠে লিখিত হইবে এবং সম্ভব হইলে তাহাদের স্বাক্ষর মূল সমনের পৃষ্ঠে গ্রহণ করিতে হইবে ৷ তত্‍পর জারিকারক এফিডেফিট সম্বলিত বিবৃতিসহ উহা আদালতে ফেরত দিতে হইবে৷

(খ) ডাকযোগে পত্র প্রেরণ করিয়া নোটিস জারি: ডাকযোগে সমন জারির পদ্ধতি দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৫নং আদেশের ৫নং আদেশের ৫নং আদেশের ২১-৩০ নিয়মে বর্ণিত আছে৷ বিবাদী কারাগারে আটক থাকিলে কারাগারের কর্মচারীর মাধ্যমে অথবা ডাকযোগে সমন জারি করা যাইতে পারে৷ কোন বিবাদী বাংলাদেশের বাহিরে বসবাস করিলে এবং দেশে তাহার কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি না থাকিলে তাহার বিদেশস্থিত ঠিকানায় ডাকযোগে সমন প্রেরণ করা যাইতে পারে৷

বিবাদী কোন সৈনিক, বৈমানিক বা নাবিক হইলে আদালত ঐ সমন এবং ইহার একটি নকল বিবাদীকে প্রদান করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ডাকযোগে পাঠাইবেন৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহা বিবাদীর উপর জারি করিয়া ও সম্ভব হইলে বিবাদীর লিখিত প্রাপ্তিস্বীকারসহ ঐ সমন জারিকারক আদালতে পাঠাইবেন৷ বিবাদী কোন সরকারী কর্মচারী, রেল কর্মচারী, অথবা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, হইলে সমন ও ইহার একটি নকল বিবাদীর উপর জারি করার অনুরোধপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অথবা অফিস প্রধানের নিকট ডাকযোগে পাঠাইবেন৷ উক্ত কর্তৃপক্ষ বা অফিস প্রধান উক্তরূপে উহা জারি করিয়া উহা আদালতে ফেরত পাঠাইবেন৷

ধারা:  ৮৷ লিখিত জবাব:

(১) বিবাদীর হাজিরার নিমিত্ত নির্ধারিত তারিখে বাদী এবং বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবেন ও বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব উপস্থাপন করিবেন৷

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী প্রার্থনা করিলে এবং উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন করিলে আদালত অনধিক ২১ দিন পর জবাব দেওয়ার জন্য অন্য একটি তারিখ ধার্য্ করিতে পারেন৷

(২) লিখিত জবাবে উক্ত আত্মরক্ষার সমর্থনে হাজির করা হইবে এমন সাক্ষীগণের নাম এবং ঠিকানাসমূহ লিখিত জবাবের অন্তর্ভুক্ত থাকিবে৷

শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতিক্রমে পরবর্তী যেকোন স্তরে যেকোন সাক্ষী ডাকিতে পারেন; যদি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত উক্তরূপ সাক্ষ্যগ্রহণ সমীচীন মনে করেন ৷

(৩) বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলাধীন অথবা আয়ত্তাধীন কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে তিনি লিখিত জবাব উপস্থাপনকালে আদালতে পেশ করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল অথবা উহার অবিকল বা ফটোস্ট্যাট প্রতিলিপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্তির জন্য একটি লিস্টভুক্ত করিবেন৷

(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার স্বীয় দখলাধীনে অথবা আয়ত্তাধীনে নাই এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করেন সেক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলের বিষয়টি লিখিত জবাবের সহিত সংযোজন করণার্থে একটি তালিকাভুক্ত করতঃ দলিলটি কাহার দখলে অথবা আয়ত্তাধীনে রহিয়াছে তাহা বর্ণনা করিবেন৷

(৫) মামলায় যতজন বাদী রহিয়াছে তফসিলসহ লিখিত জবাবের ততগুলো অবিকল নকল তত্সহ ৩ ও ৪ নং উপধারায় বর্ণিত দলিলের ফিরিস্তির ততগুলো অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত থাকিবে৷

 (৬) ৫ নং উপধারায় বর্ণিত তফসিলসহ লিখিত জবাব, দলিলসমূহ এবং দলিলসমূহের তালিকায় নকল আদালতে উপস্থিত বাদীকে অথবা তাহার প্রতিনিধি অথবা এডভোকেটকে প্রদান করিতে হইবে৷

 যেক্ষের(৭) যেক্ষেত্রে জবাব উপস্থাপনের সময় বিবাদী আদালতে কোন দলিল দাখিল করা উচিত অথবা উহা জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার জন্য কোন লিস্টভুক্ত করা উচিত এবং যদি উহা উক্তরূপে দাখিল বা লিস্টভুক্ত না করা হয় তবে মামলার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা আর তাহার তবে  মামলার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা আর তাহার তবে মামলার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা আর তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না৷

 শর্ত থাকে যে, বিশেষ অবস্থা ব্যতীত আদালত ঐরূপ অনুমতি প্রদান করিবেন না৷

ধারা  ৯৷ প ৯৷ পক্ষসমূহের অনুপস্থিত থাকার ফলাফল:

বিবাদীর(১) বিবাদির হাজির হইবার নির্ধারিত দিনে মোকদ্দমা শুনানির সময় কোন পক্ষই হাজির না থাকিলে আদালত মোকদ্দমাটি খারিজ করিতে পারেন ৷

মোকদ্দমা (২) মোকদ্দমা শুনানির সময় বাদী উপস্থিত থাকিলে ও বিবাদী গর-হাজির থাকিলে-

(ক) বি   (ক) বিবাদীর বরাবরে যথাযথভাবে নোটিস অথবা সমন জারি করা হইয়াছে - যদি ইহা প্রমাণিত হয় তবে আদালত একতরফাভাবে মোকদ্দমা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিবেন ;

(খ) য   (খ) যথাযথভাবে বিবাদীর বরাবরে সমন অথবা নোটিস জারি করা হইয়াছে- যদি ইহা প্রমাণিত না হয় তবে আদালত বিবাদীর উপর পুনরায় সমন এবং নোটিস ইস্যু এবং জারি করার আদেশ প্রদান করিবেন ;

(গ) যেক্ষেত্রে ইহা প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর বরাবরে সমন অথবা নোটিস জারি হইলেও হাজির হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখে আদালতে উপস্থিত হইয়া জবাব প্রদানের নিমিত্ত সে পর্যাপ্ত সময় পাই নাই, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবী রাখিয়া ভবিষ্যতে একুশ দিন অতিক্রম না করিয়া শুনানির একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করিবেন ও বিবাদীকে অনুরূপ দিন সম্বন্ধে নোটিস প্রদান করিবেন৷

(৩) আদালত কোন মোকদ্দমার শুনানি একতরফাভাবে স্থগিত ঘোষণা করিলে এবং বিবাদী এই ধরনের শুনানির সময় অথবা তত্‍পূর্বে তাহার গরহাজির থাকার উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন করিলে আদালতের বিবেচিত শর্তসাপেক্ষে মোকদ্দমার শুনানির জবাব দিতে পারে ও এইরূপ ক্ষেত্রে বিবেচিত হইবে যে, সে যেন তাহার উপস্থিত হইবার নির্ধারিত তারিখেই হাজির হইয়াছিল৷

 (৪) কোন মোকদ্দমা শুনানির সময় বিবাদী হাজির থাকিলে এবং বাদী হাজির না থাকিলে এবং বিবাদী সম্পূর্ণ অংশ অথবা অংশবিশেষ স্বীকার না করিলে আদালত মোকদ্দমাটি খারিজ করিবেন; এই ধরনের ক্ষেত্রে বিবাদীর স্বীকার অনুযায়ী আদালত তাহার বিরুদ্ধে ডিক্রি দিবেন৷ বিবাদীর দাবির অংশবিশেষ সম্বন্ধে মোকদ্দমা খারিজ করিবেন৷

(৫) ১ নং উপধারা মোতাবেক মোকদ্দমা ও ৪ নং উপধারা মোতাবেক পূর্ণ অথবা আংশিক মোকদ্দমা খারিজ করা হইলে বাদী মামলার খারিজ আদেশ ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে যে আদালত কর্তৃক মোকদ্দমা খারিজ করা হইয়াছে সেই আদালতে খারিজাদেশটি রদ করণার্থে আবেদন করিতে পারেন এবং যদি সে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে যে, মামলার শুনানিকালে তাহার গরহাজির থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল সেক্ষেত্রে আদালত খারিজাদেশটি রদকরতঃ মামলা পরিচালনার নিমিত্ত দিন ধার্য করিবেন৷

শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার খরচ অথবা অন্যবিধ ব্যাপারে আদালত স্বীয় বিবেচনায় যথাথᐂ শর্তে ৪ নং উপধারা অনুযায়ী প্রদত্ত খারিজ আদেশ রহিত করিবেন৷

আরও শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর সংশ্লিষ্ট আবদনের নোটিস জারি না করিয়া ৪ নং উপধারা মোতাবেক প্রদত্ত খারিজ আদেশ রহিত করা যাইবে না৷

(৬) বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি প্রদান করা হইলে সে ডিক্রি প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে যে আদালত কর্তৃক ডিক্রি প্রদান করা হইয়াছিল সেই  আদালতে উহা রদ করণার্থে আবেদন করিতে পারিবে এবং যদি সে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে যে মোকদ্দমার শুনানির সময় তাহার অনুপস্থিত থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল তবে আদালত খরচ অথবা অন্যবিধ ব্যাপারে যথাসম্মত শর্তে তাহার বিরুদ্ধে প্রদত্ত একতরফা ডিক্রিটি বাতিল করিয়া মামলা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য্য করিবেন:

শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন প্রকৃতির হয় যে, উহা শুধু দরখাস্তকারী বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যায় না তবে উহা সকল অথবা অন্য যেকোন বিবাদীর বিরুদ্ধেও বাতিল করিতে হইবে৷

আরও শর্ত থাকে যে, আবেদনপত্র সম্বন্ধে বাদীর উপর নোটিস জারি না করিয়া এই উপধারা মোতাবেক কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না৷

(৭) ৬নং উপধারার অধীনে দেওয়া দরখাস্তের ক্ষেত্রে ১৯০৮ সনের তামাদি আইনের (১৯০৮ সনের ৯নং আইন) ৫নং ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে৷

ধারা ১০৷ বিচারপূর্ব কাযর্যক্রম:

(১) লিখিত বিবৃতি দাখিলের পর পারিবারিক আদালত মামলার বিচারপূর্ব শুনানির জন্য সাধারণভাবে অনধিক ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি তারিখ নির্দিষ্ট করিবেন৷

(২) বিচারপূর্ব শুনানির জন্য আদালত নির্দিষ্ট তারিখে আরজি, লিখিত জবাব, পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবেন এবং যথার্থ মনে করিলে পক্ষগণের বক্তব্য শ্রবণ করিবেন৷

(৩) বিচারপূর্বে শুনানিতে আদালত পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়গুলি নির্ণয় করিবেন এবং সম্ভবপর হইলে পক্ষগণের মধ্যে আপোস অথবা পুর্নমিলন চেষ্টা করিবেন৷

(৪) কোন প্রকার আপোস অথবা পুনর্মিলন সম্ভবপর না হইলে আদালত মামলার বিরোধীয় বিষয় নির্ধারণ করিবেন ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সাধারণতঃ ত্রিশ দিনের বেশি নহে পরে একটি তারিখ ধার্য্ করিবেন৷

ধারা ১১৷ নিভৃত কক্ষে বিচার :

(১) পারিবারিক আদালত যথার্থ মনে করিলে এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যক্রম রুদ্ধকক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারেন৷

(২) যদি মোকদ্দমার উভয় পক্ষ কার্যধারা রুদ্ধকক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন তবে আদালত অবশ্যই অনুরূপ করিবেন৷

ধারা ১২৷ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ:

(১) সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্ধারিত তারিখে পারিবারিক আদালত যেই পদ্ধতি যথাযথ মনে করিবেন সেই পদ্ধতিতে উভয় পক্ষের সাক্ষ্যদের জবানবন্দি গ্রহণ করিবেন৷

(২) আদালত কোন পক্ষের কোন সাক্ষীর উপর আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন প্রেরণ করিবেন না৷ তবে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তিন দিনের ভিতর যদি কোন পক্ষ আদালতকে জ্ঞাত করায় যে, সে ইচ্ছা করে যেকোন সাক্ষীকে সমন জারির মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত করা হউক এবং যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত পক্ষের পক্ষে সাক্ষীকে উপস্থিত করানো সম্ভবপর অথবা সহজসাধ্য নহে তবে সাক্ষীকে উপস্থিত করানোর নিমিত্ত সমন জারি করা হইবে৷

(৩) সাক্ষীগণ তাহাদের নিজেদের কথায় সাক্ষ্যদান করিবেন এবং তাহাদিগকে জেরা ও পুনঃ জবানবন্দি করা যাইবে৷

(৪) এইরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে আদালত নিষেধ করিতে পারেন যাহা অশালীন, কুত্‍সাব্যঞ্জক বা নগণ্য এবং যাহা আদালতের বিবেচনায় অপমানজনক, বিরক্তিকর অথবা আক্রমন প্রণোদিত৷

(৫) আদালত উপযুক্ত মনে করিলে মোকদ্দমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা গ্রহণাথে যেকোন সাক্ষীকে যেকোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে পারেন৷

 (৬) আদালত কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য হলফনামার মাধ্যমে প্রদানের অনুমতি দিতে পারে ন৷  

শর্ত থাকে যে, আদালত উপযুক্ত মনে করিলে এই সাক্ষীকে এইরূপ সাক্ষীর জবানবন্দির জন্য ডাকিতে পারেন৷

(৭) আদালতের মামলা পরিচালনাকারী বিচারক প্রত্যেক সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতের ভাষায় লিপিবদ্ধ করিবেন এবং উহাতে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন৷

(৮) কোন সাক্ষী আদালতের ভাষা ব্যতীত অপর কোন ভাষায় সাক্ষ্য প্রদান করিলে বিচারক সম্ভবপর হইলে সেই ভাষাতেই সাক্ষ্যটি লিপিবদ্ধ করিবেন এবং আদালতের ভাষায় এই ধরনের সাক্ষ্যের প্রমাণিক ভাষান্তরকরণ আদালতের নথির অংশ হিসাবে গণ্য হইবে৷

(৯) কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য গৃহীত হইবার পর উহা তাহাকে পড়িয়া শুনাইতে হইবে এবং প্রয়োজনে উহা সংশোধন করিতে হইবে৷

(১০) সাক্ষী তাহার সাক্ষ্যের কোন অংশের শুদ্ধতা বা সঠিকতা অস্বীকার করিলে বিচারক সাক্ষ্য সংশোধন করার পরিবর্তে উক্ত সাক্ষীর উত্থাপিত আপত্তির একটি স্মারকলিপি প্রণয়ন করিবেন এবং উহাতে তিনি যাহা যথার্থ মনে করিবেন, সেইরূপ মন্তব্য সংযোজন করিবেন ৷

(১১) যে ভাষায় সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে উহা প্রদত্ত সাক্ষ্যের ভাষা হইতে ভিন্নতর হইলে এবং যদি  সাক্ষী উক্ত ভাষা বুঝিতে অসমর্থ হয় তবে সাক্ষ্যটি যে ভাষায় প্রদত্ত হইয়াছিল সেই ভাষায় বা যে ভাষা সাক্ষীর বোধগম্য সেই ভাষায় তাহা ব্যাখ্যা করিতে হইবে৷

ধারা ১৩৷ বিচার সমাপ্তি:

(১) সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোস অথবা পুনমিᐂলন ঘটাইবার জন্য আর একদফা চেষ্টা চালাইবেন৷

 (২) অনুরূপ কোন আপোস অথবা পুর্নমিলন ঘটানো সম্ভবপর না হইলে আদালত তত্ক্ষণাতত্‍ পক্ষগণ বা তাহাদের এজেন্টগণ  বা এডভোকেটগণকে নোটিস প্রদান করিয়া অনধিক ৭ দিন পর রায় ঘোষণা করিবেন ও রায় প্রদানের পর ডিক্রি প্রদান করা হইবে৷

ধারা ১৪৷ আপোস ডিক্রি:

আপোস অথবা পুর্নমিলনের মাধ্যমে কোন বিরোধের পরিসমাপ্তি ঘটিলে পক্ষগণের মধ্যে সম্পাদিত আপোস অথবা মিটমাটের আলোকে আদালত মোকদ্দমায় ডিক্রি অথবা সিদ্ধান্ত দিবেন৷

ধারা ১৫৷ রায় লিপিবদ্ধকরণ:

(১) পারিবারিক আদালতের প্রত্যেকটি রায় বিচারক কর্তৃক বা তাহার প্রদত্ত শ্রুতলিপি হইতে আদালতের ভাষায় লিখিতে হইবে এবং প্রকাশ্য আদালতে উহা ঘোষণার সময় উক্ত বিচারক তাহা স্বাক্ষর করিবেন ও তারিখ লিখিবেন৷

(২) আপীলযোগ্য সকল রায় বা আদেশসমূহের ক্ষেত্রে বিচারের বিষয়, সিদ্ধান্ত এবং উহার যুক্তি বা কারণ লিপিবদ্ধ করিতে হইবে৷

ধারা ১৬৷ ডিক্রি প্রয়োগ :

(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবেন এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিষ্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবেন৷

(২) ডিক্রির দায় পরিশোধ হিসাবে আদালতের উপস্থিতিতে আদলতে কোন নগদ অর্থ প্রদান করিলে অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হইলে৷

ধারা ১৬-এ৷ পারিবারিক আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ  প্রদান:

১৷ মামলা চলাকালীন যেকোন পর্যায়ে পারিবারিক আদালত যদি এফিডেফিট মাধ্যমে বা অন্য কোনভাবে সন্তুষ্ট হন যে, কোন পক্ষকে মামলার উদ্দেশ্য ব্যর্থ করা হইতে বিরত করার জন্য তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন তবে ইহা যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন সেইভাবে অন্তবতীᐂকালীন আদেশ প্রদান করিতে পারেন৷

২৷  অনুরূপ প্রদান বা হস্তান্তরের বিষয় আদালত উপরোক্ত রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করিবেন৷

৩৷ যেক্ষেত্রে ডিক্রিটি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত এবং যেক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা না হয় সেক্ষেত্রে উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর এক বৎসর সময়ের মধ্যে ডিক্রিহোল্ডারের প্রার্থনাক্রমে ডিক্রিটি জারি করা হইবে -

   (ক) দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে দেওয়ানী আদালতে টাকার ডিক্রির মত, অথবা

   (খ) ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির (১৮৯৮ সনের ৫ নং আইন) অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা পরিশোধের মত, এবং ঐরূপ জারির পর ডিক্রির আদায়কৃত ডিক্রিহোল্ডারকে প্রদান করা হইবে৷

৩-এ৷ ৩(ক) উপারার অধীনে ডিক্রি জারির নিমিত্তে কোর্ট দেওয়ানী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং কার্যবিধির অধীনে উক্ত আদালতের সমস্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হইবে৷

৩-বি৷ ৩(খ) উপধারার অধীনে একটি ডিক্রি জারির নিমিত্ত পারিবারিক আদালতে জজ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবে এবং ১৮ঌ৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির অধীনে (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন) ঐরূপ ম্যাজিস্ট্রেটের সমস্ত ক্ষমতাবান হইবেন এবং ডিক্রির  টাকা আদায়ের জন্য তিনি উক্ত কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী জরিমানার টাকা আদায়ের মত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর ডিক্রির সম্পূর্ণ বা আংশিক বকেয়া টাকার জন্য খাতককে উর্ধ্বে তিন মাস বা টাকা পরিশোধ পর্যন্ত (যদি আগে পরিশোধ করে) কারাদন্ডে দন্ডিত করিতে পারেন৷

৩-সি৷ যেক্ষেত্রে একটি ডিক্রি টাকা পরিশোধের ডিক্রি না হয় সেক্ষেত্রে ইহা দেওয়ানী আদালতের টাকার ডিক্রি নহে এমনভাবে জারি করা হইবে এবং এই উদ্দেশ্যে কোর্টে একটি দেওয়ানী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে উক্ত আদালতের সমস্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হইবে৷

৪৷ যে পারিবারিক আদালত ডিক্রি প্রদান করে সেই আদালত কর্তৃক ডিক্রি জারি করা হইবে অথবা যে পারিবারিক আদালত উক্ত ডিক্রি প্রদান করে সেই আদালত যে পারিবারিক আদালতে উহা জারি করার জন্য পাঠাইবে সেই পারিবারিক আদালতও উহা জারি করিবে এবং সেই ডিক্রি জারির নিমিত্ত যে আদালতে উহা পাঠানো হইবে সেই পারিবারিক আদালতের ডিক্রি প্রদানকারীর আদালতের সমস্ত ক্ষমতা থাকিবে যেন সেই আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে৷

৫৷ আদালত যথাযথ মনে করিলে ডিক্রির টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার আদেশ দিতে পারেন এবং ডিক্রি জারি আদালত ইহার বিবেচিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিস্তির দফা নির্দিষ্ট করিয়া দিতে পারিবেন৷

ধারা ১৭৷ আপীল:

৩ ন(১) ৩ নং উপধারার বিধানসাপেক্ষে পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি অথবা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপীল দায়ের করা চলিবে৷

(২) পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন আপীল করা যাইবে না-

         (ক) ১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন (১৯৩৯ সনের ৮ নং আইন)-এর ২(৮) (ঘ) ধারায় বর্ণিত  কারণে বিবাহবিচ্ছেদ ব্যতীত অপর কোন কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ;

          (খ) মোহরানা ৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে না হইলে৷

(৩) এই ধারা অনুযায়ী রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ ঘোষণার তারিখ হইতে উহাদের নকল সংগ্রহের সময় বাদ দিয়া ত্রিশ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করিতে হইবে :

শর্ত থাকে যে, জেলা জজ আদালত উপযুক্ত কারণে উপরোক্ত সময়সীমা বর্ধিত করিতে পারিবেন৷

(৪) আপীল হইবে -

     (ক) লিখিত ;

     (খ) আপীলকারীর যে সকল হেতুবাদে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ চ্যালেঞ্জ করিতে চায় তাহা উল্লেখ করিয়া ;     

     (গ) পক্ষগণের নাম, বিবরণ এবং ঠিকানা উল্লেখ করিয়া; এবং

     (ঘ) আপীলকারীর স্বাক্ষরসহ৷

(৫) যে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করা হইলে উহার সত্যায়িত অনুলিপি আপীলের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে৷

(৬) জেলা জজ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ যত শীঘ্র সম্ভব পারিবারিক আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে এবং পারিবারিক আদালত তদনুযায়ী রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন বা পরিবর্তন করত: ডিক্রি রেজিষ্টারের নির্ধারিত কলামে প্রয়োজনীয় অর্ন্তর্ভুক্তির কার্য সম্পাদন করিবেন৷

(৭) জেলা জজ অতিরিক্ত জেলা জজ বা সাব-জজ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য কোন আপীল প্রেরণ করিতে বা ঐরূপ আদালত হইতে আপীল প্রত্যাহার করিতে পারিবেন৷

ধারা ১৮৷ পারিবারিক আদালতের সাক্ষীদের তলব করিবার ক্ষমতা:

(১) পারিবারিক আদালত যেকোন ব্যক্তিকে হাজির হইতে ও সাক্ষ্য প্রদান করিতে অথবা কোন দলিল দাখিল করিতে বা করাইতে সমন প্রেরণ করিতে পারেন৷

তবে তবে শর্ত থাকে যে, 

(ক) দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ১৩৩(১) ধারা অনুসারে ব্যক্তিগত উপস্থিতি হইতে অব্যাহতি প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকেই ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতির নির্দেশ প্রদান করা যাইবে না;

(খ) যেক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের বিবেচনায় পরিস্থিতি অনুসারে যুক্তযুক্ত বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত কোন সাক্ষীকে উপস্থিতি করানো যাইবে না সেক্ষেত্রে কোন পারিবারিক আদালত সেই সাক্ষীকে সমন করিতে অথবা সাক্ষীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রেরিত সমনকে কার্যকর করিতে অস্বীকার করিতে পারেন৷

(২) পারিবারিক আদালত কোন ব্যক্তিকে হাজির হওয়ার ও সাক্ষ্য প্রদানের জন্য বা তত্সমীপে কোন দলিল দাখিল করার নিমিত্ত সমন জারি করিলে সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি উহা ইচ্ছাকৃতভাব অমান্য করে তবে আদালত উক্ত অমান্যের কারণ সম্বন্ধে উক্ত ব্যক্তিকে কৈফিয়তের সুযোগ প্রদানকরতঃ তাহাকে অনধিক একশত টাকা জরিমানায় দন্ডিত করিতে পারেন৷

ধারা ১৯৷ পারিবারিক আদালত অবমাননা:

 যেকোন ব্যক্তি পারিবারিক আদালত অবমাননার দায়ে দোষী হইবে যদি সে বৈধ অজুহাত ব্যতীত -

    (ক) পারিবারিক আদালতের প্রতি অপমান প্রদর্শন করে;

    (খ) পারিবারিক আদালতের কার্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করে;

    (গ) পারিবারিক আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও উত্তর প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে; বা

     (ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ করিতে বা পারিবারিক আদালতে প্রদত্ত স্বীয় বিবৃতিতে স্বাক্ষর দান করিতে অস্বীকার করে;

পারিবারিক আদালত অনুরূপ আদালত অবমাননার দায়ে তত্ক্ষণাত্‍ উক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারেন এবং তাহাকে অনধিক দুইশত টাকা জরিমানা করিতে পারেন৷

ধারা ২০৷ কতিপয় আইনের প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ:

(১) এই অধ্যাদেশ কর্তৃক অথবা ইহার অধীনে অন্যভাবে স্পষ্টরূপে বর্ণিত বিধান ব্যতীত ১৮৭২ সনের সাক্ষ্য আইন (১৮৭২ সনের ১নং আইন)-এর এবং দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ১০ ও ১১ ধারা ব্যতীত অন্যান্য বিধানাবলী পারিবারিক আদালতের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷

(২) ১৮৭৩ সনের শপথ আইন (১৮৭৩ সনের ১০ নং আইন) পারিবারিক আদালতসমূহের সকল কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে৷

ধারা ২১৷ এজেন্টগণের মাধ্যমে হাজিরা:

এই অধ্যাদেশ বলে, সাক্ষী ব্যতীত, পারিবারিক আদালতে হাজির হইবার নিমিত্ত আদিষ্ট কোন ব্যক্তি যদি পর্দানশীল মহিলা হয় তাহা হইলে পারিবারিক আদালত তাহাকে যথোচিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন এজেন্টের মাধ্যমে তাহার প্রতিনিধিত্ন করার জন্য অনুমতি দিতে পারেন৷

ধারা ২২৷ কোর্ট ফী:

পারিবারিক আদালতে দায়েরকৃত যেকোন রকম মোকদ্দমার আরজির জন্য পঁচিশ টাকা কোর্ট ফী প্রদেয় হইবে৷

ধারা ২৩৷ ১৯৬১ সনের ৮নং অধ্যাদেশ অপ্রভাবিত:

(১) এই অধ্যাদেশের কোন কিছুই ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (১৯৬১ সনের ৮ নং আইন)-এর বা উহার অধীনে প্রণীত বিধিসমূহের কোন বিধানকে প্রভাবিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে না৷

(২) যদি কোন পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দেয়, তবে সেক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের তারিখ হইতে সাত দিনের মধ্যে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (১৯৬১ সনের ৮ নং আইন)-এর ৭ ধারায় উল্লেখিত নির্ধারিতচেয়ারম্যানের নিকট ডিক্রির প্রত্যায়িত নকল রেজেষ্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করিবেন এবং চেয়ারম্যান  উক্ত নকল প্রাপ্তির পর এরূপভাবে অগ্রসর হইবেন যেন উক্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রদত্তব্য বলিয়া আবশ্যক তালাক সম্পর্কে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন৷

(৩) পারিবারিক আদালত  কর্তৃক প্রদত্ত মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি-

(ক) ২ নং উপধারা মোতাবেক উহার প্রতিলিপি যে তারিখে চেয়ারম্যান গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হইবে না; এবং

 (খ) ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (১৯৬১ সনের ৮নং আইন)-এর বিধানসমূহ অনুযায়ী পক্ষদের মধ্যে (ক) অনুচ্ছেদ বর্ণিত মুদ্দত মধ্যে পুর্নমিলন ঘটানো হইলে ডিক্রি অকার্যকর হইবে৷

ধারা ২৪৷ পারিবারিক আদালত ১৮ঌ০ সালের ৮ নং আইনের উদ্দেশ্যাবলী সাধনার্থে জেলা আদালত বলিয়া গণ্য হইবে :

(১) পারিবারিক আদালত ১৮৯০ সনের গার্জিয়ানস্ এন্ড ওয়ার্ডস আইন (১৮৯০ সনের ৮ নং আইন) এর উদ্দেশ্য সাধনার্থে জেলা আদালত বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই অধ্যাদেশে যাহাই থাকুক না কেন উক্ত আইনে উল্লেখিত বিষয়াদি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পারিবারিক আদালত উক্ত আইনের নির্দিষ্ট কার্যবিধি অনুসরণ করিবেন৷

(২) গার্জিয়ানস্ এন্ড ওয়ার্ডস আইন (১৮৯০ সনের ৮ নং আইন)-এর অন্তর্গত যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বে জেলা আদালতরূপে পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজের আদালতে আপীল করা চলিবে এবং এই অধ্যাদেশের ১৭ ধারার বিধানাবলী উক্ত আপীলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে৷

ধারা ২৫৷ মোকদ্দমা এবং আপীলসমূহ স্থানাস্তর ও স্থগিত:

(১) হাইকোট বিভাগ কোন পক্ষের আবেদনে বা স্বীয় উদ্যোগে লিখিত আদেশ বলে -

(ক) এই অধ্যাদেশের অধীনে যেকোন মামলা একটি পারিবারিক আদালত হইতে একই জেলার আরেকটি পারিবারিক আদালতে বা এক জেলার কোন পারিবারিক আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আদালতে স্থানান্তরে করিতে পারেন;

(খ) এই অধ্যাদেশের অধীনে যে কোন আপীল একটি জেলার জেলা জজের আদালত হইতে আরেকটি জেলার জজ আদালতে স্থানান্তর করিতে পারেন৷

(২) জেলা জজ কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় উদ্যোগে লিখিত আদেশবলে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে এই অধ্যাদেশের অধীন যেকোন আপীল স্থানান্তর করিতে পারেন৷

(৩) এই অধ্যাদেশে যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও কোন জেলা জজ এই অধ্যাদেশের অধীন কোন আপীল তাহার এজলাসে বিচারাধীন থাকিলে অনুরূপ আপীল তাহার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন কোন অতিরিক্ত জেলা জজের অথবা সাব-জজের আদালতে স্থানান্তর করিতে পারেন এবং উক্ত আপীল স্বীয় এজলাসে পুনঃস্থানান্তর করিতে পারেন৷

(৪) এই অধ্যাদেশের অধীন যেকোন কিছু থাকা সত্বেও এই ধারা অনুযায়ী কোন মামলা অথবা আপীল কোন আদালতে স্থানান্তরিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য উক্ত আদালতের এমনভাবে এখতিয়ার থাকিবে যেন উহা শুরুতেই ঐ আদালতে দায়ের করা হইয়াছিল৷

শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমা স্থানান্তরের পর স্থলাভিষিক্ত বিচারকের এজলাসে উক্ত মোকদ্দমার কার্যক্রম নূতন করিয়া আরম্ভ করিবার প্রয়োজন নাই, যদি না উক্ত জজ কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করিয়া অন্যবিধ নির্দেশ প্রদান করেন৷

(৫) জেলা জজ তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে কোন পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন মামলা লিখিত আদেশের দ্বারা স্থগিত করিতে পারেন৷

(৬) হাইকোর্ট বিভাগ কোন পারিবারিক আদালতে অথবা জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন যেকোন মামলা অথবা আপীল লিখিত আদেশের দ্বারা  স্থগিত করিতে পারেন৷

ধারা ২৬৷ বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা:

এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে সরকার সরকারী গেজেটে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারেন৷

ধারা ২৭৷ বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে বিধানবলী:

এই অধ্যাদেশ যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশ বলবত হওয়ার আশু পূর্বে কোন আদালতে বিচারাধীন ৫ ধারায় উল্লেখিত বিষয়াদি সম্পর্কিত অথবা উদ্ভুত সকল মামলা, আপীল ও অন্যান্য আইনগত কার্যধারা যে আদালতে বিচারাধীন সেই আদালতে এইরূপভাবে শুনানি ও নিষ্পত্তি হইবে যেন এই অধ্যাদেশ প্রণীত হয় নাই৷

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প