জমি জমা সংক্রান্ত

সার্ভে ও সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত কতিপয় শব্দ বা পদের ব্যাখ্যা:
  • এওয়াজ (By virtue of exchange): সমপরিমান কোন ভূমি বা জিনিসের বদলে সমপরিমান কোন ভূমি বা জিনিস প্রাপ্ত হলে তাকে এওয়াজ সূত্রে প্রাপ্ত বলা হয়। ইহাকে বদল সূত্র ও বলে।
  • অছিয়তনামা: যদি কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বে তাহার ওয়ারিশ বা আত্মীয়-স্বজনকে তদীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারা সম্পর্কে দলীল মূলে কোন নির্দেশ দিয়ে যান, তবে তাকে অছিয়তনামা বলে। হিন্দু ধর্মে ইহাকে উইল বলে।
  • খায় খালাসী রেহেন (Usufructuary Mortgage): নির্দিষ্ট মেয়াদে জমি বন্ধক দিয়ে টাকা কর্জ করত: উক্ত জমির ফসলের দ্বারা কর্জ পরিশোধ হয়ে গেলে তাকে খায় খালাসী রেহেন বলে। খায় খালাসী মানে খেয়ে দেয়ে শোধ বা মুক্ত করে দেয়া।
  • চৌহদ্দি (Boundary): সীমানা। কোন নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির চারপাশে যা কিছু রয়েছে (জমিজমা, পুকুর,স্থাপনা,মালিকের নাম এবং সম্পত্তির বিবরণসহ) তাই চৌহদ্দি।
  • নামজারি (Mutation): জমির মালিকানা পরিবর্তিত হলে পুরাতন মালিকের স্থলে নতুন মালিকের নাম প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াকেই নামজারি বলে।
  • দিয়ারা : পলিমাটি দ্বারা গঠিত চর। দরিয়া থেকে দিয়ারা শব্দ এসেছে। চরের জমি জরিপ করার জন্য দিয়ারা জরিপ করা হয়।
  • নক্সা (Map): ম্যাপ বা নকশা বলতে অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ র্নিণয় করে ভূমির অবিকল প্রতিচ্ছবিকে বুঝায়।
  • নামজারী: ভূম্যধিকারীর সরকারের সাবেক নামের পরিবর্তে খরিদ্দার অথবা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তির নাম রেজিষ্ট্রী করাকে নামজারী বলে।
  • নাম খারিজ ও জমা খারিজ: ১৬ আনা জোতের মোট জমা হতে নামজারী কৃত ওয়ারিশ বা খরিদ্দারের দখলীয় জমির জমা ১৬ আনা জমা হার অনুসারে জমা ভাগ করে দিয়ে পৃথক জমা সৃষ্টি করাকে নাম খারিজ বা জমা খারিজ বলে।
  • পাট্টা: প্রজার স্বত্ব ও দায়িত্ব বর্নণা করে মালিক প্রজাকে যে দলিল দিয়ে থাকেন তাকে পাট্টা বলে।
  • বাঁটওয়ারা (Partition): বন্টন।
  • মৌজা: গ্রাম বা শহরকে এতোদুদ্দেশ্যে মৌজা বলা হয়। যেমন, ঢাকা শহর মৌজা, ময়মনসিংহ শহর মৌজা ইত্যাদি।
  • ভূমি: সাধারণভাবে সকল আবাদী ও অনাবাদী ভূমি এবং নদ-নদী, খাল-বিল, নালা, পুকুর, ডোবা, বাড়ীঘর যাহা ভূমির সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়েছে ইত্যাদি ভূমি বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু সাগর বা উপ-সাগরকে ভূমি বলে গণ্য করা হয়না।
  • দাগ (Plot): ভূমির বিবরণ, হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচিতির জন্য জরিপ বিভাগ দেশের সমুদয় ভূমিকে আকারে ও পরিমাণে খন্ডে খন্ডে বা অংশে বিভক্ত করেছেন। এই সকল ভূমি খণ্ডাংশের প্রত্যেকটিকে ‘দাগ’ এবং ইংরেজিতে প্লট বলা হয়।
  • খতিয়ান: খতিয়ানের অর্থ হলো হিসাব। সাধারণভাবে স্বত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে জরিপ-বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, ঠিকানা, হিস্যা (অংশ) এবং তাদের স্বত্বাধীন দাগ বা বিবরণসমূহের নম্বরসহ ভূমির পরিমান, শ্রেণী, ইহাদের জন্য দেয় খাজনা ইত্যাদি বিবরণসহ ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে যে স্বত্ব তালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় ইহাদের প্রত্যেকটিকে খতিয়ান বলা হয় এবং উক্ত রেকর্ডকে স্বত্বের ‘রেকর্ড অব রাইট’ (ROR) বলা হয়।

এক বা একাধিক দাগের সর্ম্পূণ বা আংশিক পরিমান ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে ভূমি-স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে ‘খতিয়ান’ বলে। খতিয়ানগুলি ১,২,৩,৪ ইত্যাদি ক্রমিক সংখ্যা দ্বারা সাজানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক খতিয়ানের একটি সংখ্যা রয়েছে। ইহাদেরকে খতিয়ান নম্বর বলা হয়। প্রত্যেক মৌজায় খতিয়ান এক (১) হতে শুরু হয়। কোন কোন মৌজায় কয়েক হাজারের বেশী খতিয়ান নম্বর থাকতে পারে। কোন মৌজায় কত সংখ্যক খতিয়ান রয়েছে, তাহা উক্ত স্বত্বের রেকর্ড এ (ROR) পাওয়া যাবে।

প্রত্যেক মৌজার ১নং খতিয়ানটিকে ‘খাস-খতিয়ান’ বলা হয়।বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংষ্কার মন্ত্রণালয়ের স্বত্বাধীন সমূদয় ভূমি যথা-হাট বাজার, খাল-বিল, রাস্তা-ঘাট এবং অন্যান্য কৃষি ও অকৃষি ভূমি উক্ত ১ নং খতিয়ানের অন্তভূর্ক্ত হয়ে থাকে এবং সরকারের পক্ষে ‘কালেক্টর’ হিসাবে উক্ত ১ নং খতিয়ানে লিখনভূক্ত হয়ে থাকে।

খতিয়ানের তালিকায় নিম্নলিখিত বিষয়াদি লেখা থাকে, যেমন-

  • খতিয়ানের ক্রমিক নম্বর
  • মালিক বা মালিকগণের নাম ও তাদের পিতা কিংবা স্বামীর নাম এবং মালিকের পূর্ণ বিবরণ।
  • মালিক বা মালিকগণের অংশ।
  • দাগ নম্বর।
  • দাগের ভূমির শ্রেণী
  • দাগের ভূমির পরিমান
  • দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের হিস্যা
  • দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের জমির পরিমান
  • রাজস্ব
  • মন্তব্য
  • জেলার নাম
  • থানার নাম
  • মৌজা বা উপজেলার নাম
  • জে.এল নং
  • তৌজি নং ইত্যাদি

হাল খতিয়ান নম্বর: কোন এলাকায় সর্বশেষ জরিপে খতিয়ানের রেকর্ড প্রস্তুত হওয়ার পর সরকার কর্তৃক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হয়ে বর্তমানে চালু আছে, এইরূপ খতিয়ানসমূহকে ‘হাল-খতিয়ান’ বলা হয়।

  • সাবেক খতিয়ান নম্বর: যে সকল খতিয়ান হাল খতিয়ান চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত চালু ছিল এবং বর্তমানে চালু নেই এইরূপ খতিয়ানসমূহে ‘সাবেক খতিয়ান’ বলা হয়। এই সাবেক খতিয়ানগুলি ভূমির ধারাবাহিক পরিচিতির জন্য প্রয়োজন। ইহা ছাড়া, সাবেক খতিয়ানগুলি হাল-খতিয়ান হিসেবে চালু থাকা কালে সম্পাদিত সকল দলিল, মামলা-মোকদ্দমার রায়ে, ডিক্রিতে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে এই খতিয়ানগুলি লেখা হয়েছিল। হাল-খতিয়ান চালু হওয়ার পূর্বেকার সম্পাদিত দলিল-দস্তাবেজ ও রায়ে উল্লেখিত খতিয়ানগুলি, যাহা সাবেক খতিয়ানে পরিণত হয়েছে, তাহা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজে সাবেক খতিয়ান নং বহাল থাকায় এইগুলির গুরুত্ব বিশেষভাবেই অপরিসীম।

 

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প