আইনগত সহায়তা সেবার প্রকৃতি

কখন এবং কোন মামলায় সহায়তা পাবেন?

দেওয়ানি (ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিষ্ঠানের, বা ব্যক্তির সাথে প্রতিষ্ঠানের বিরোধ মিমাংসাকারী আইন ও মামলা। যার নিস্পত্তি  হয় সাধারণত ক্ষতিপূরন আদায়ের মাধ্যমে অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে, বা বেকসুর খালাশ করে।) অথবা ফৌজদারী (অপরাধ দমনকারী আইন ও মামলা যার নিস্পত্তি হয় উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে বা বেকসুর খালাশ হয়।), এবং পারিবারিক (পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর বিধান মতে যে মামলা গুলো পারিবারিক আদালতে দায়ের করতে হয় এবং যেগুলোর বিচার পারিবারিক আদালতে হয়ে থাকে সেগুলো পারিবারিক আদালতের এখতয়িার ভূক্ত মামলা । যেমন: (ক) বিবাহবিচ্ছেদ, (খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, (গ) মোহরানা, (ঘ) ভরণপোষণ ও (ঙ) সন্তান-সন্তানাদিগনের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান) মামলা সমূহ এবং সুপ্রীম কোর্টের জেলে আপীল মামলা সমূহের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা পাওয়া যায়।

মামলা দায়েরের পূর্বে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে যে কোনো ধরনের আইনি পরামর্শ, বিরোধ নিষ্পত্তির সহজ পদ্ধতি ও বিকল্প পদ্ধতিতে (ARD বিস্তারিত: মানুষে মানুষে আদান প্রদান, সম্পর্ক এবং লেনদেনের ফলেই সৃষ্টি হয় বিরোধ এবং এই বিরোধ মীমাংসার সচরাচর পদ্ধতি আদালত ব্যবস্থা। কিন্তু আধুনিক আদালত ব্যবস্থায় বিরোধ মীমাংসার কার্যক্রম অনেক জটিল এবং সময় সাপেক্ষ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। একারণে আদালত ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ হতে পারে।

১। বিচার বিভাগীয় (Judicial) পদ্ধতিতে মীমাংসা; ২। আধা-বিচার বিভাগীয় (Quasi Judicial) পদ্ধতিতে মীমাংসা; এবং ৩। বিচার বিভাগ বহির্ভূত (Non-Judicial) পদ্ধতিতে মীমাংসা।

বিচার বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি (ARD) তত্ত্বসমূহ:

বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিস্পত্তি বিচার বিভাগ বহির্ভূত কার্যক্রমেও হতে পারে আবার ইহা বিভাগ অন্তর্ভূক্ত কার্যক্রমেও হতে পারে। বিচার বিভাগ বহির্ভূত (Out of Court) হোক বা অন্তর্ভূক্ত হোক বিকল্প পদ্ধতি নিম্নরূপ ধারন হয়ে থাকে এবং এই তিন ধরনের পদ্ধতিই তিন ধরনের theory বা তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে (১) আলাপ আলোচনা (Negotiation) (২) মধ্যস্থতা র্কাযক্রম (Mediation or Conciliation) এবং (৩) সালিস ব্যবস্থা (Arbitration)

বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই তিনটি তত্ত্ব ছাড়াও আরো একটি তত্ত্ব প্রচলতি আছে। তাহলো আদালত ব্যবস্থার বিপরীতে তথা আদালতের বাহিরে বিরোধ মীমাংসা করা । অর্থাৎ negotiation, mediation বা arbitration যে মাধ্যমেই বিরোধ মীমাংসা করা হোক না কেন উহা অবশ্যই কোর্টের বাইরে হবে।

৩। দেওয়ানী কার্যবিধিতে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান।

২০০২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি সংশোধন করে নতুন অনুচ্ছদে ৮৯ক এবং ৮৯খ সংযোজন করা হয়। ৮৯ক–তে মধ্যস্থতা (Mediation) এবং ৮৯খ তে সালিশির (Arbitration) বিধান  সংযোজন করা হয়। ৮৯ক ধারার ব্যাখ্যার মধ্যস্থতার একটি সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মধ্যস্থতা বলতে প্রসারিত অনানুষ্ঠানিক অবাধ্যতামূলক গোপনীয়, অপ্রতিন্দ্বিমূলক এবং সমঝোতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তিতে পদ্ধতিতে বোঝাবে যেখানে মধ্যস্থতাকারী মীমাংসার নির্দেশ না করে তৎসম্পর্কে আদেশ না দিয়ে পক্ষগণের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে সুযোগ করে দেন।

৪। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর অধীনেও বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। (১) বিচার পূর্ণনিম্পত্তি প্র্রক্রিয়া এবং (২) বিচার পরবর্তী মীমাংসা। এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সেবা প্রদান সরকারি আইন সেবার র্অন্তভুক্ত, এছাড়াও মামলা দায়ের এবং মামলা চলমান অবস্থায় জামিন শুনানী, চার্জ শুনানী, স্বাক্ষ্য গ্রহন, আরগুমেন্টসহ  দেওয়ানী ও ফৌজদারী সকল ধরনের মামলার বিভিন্ন কার্যপদ্ধতিতে প্যানলে ভুক্ত আইনজীবীগণের এবং জেলা  লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

মামলার বাদী, বিবাদী ফরিয়াদী বা আসামী যে কেউ আইনগত সহায়তা পেতে পারেন।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প