আইনগত সহায়তা কি?

সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে এমনিই বলা আছে। কিন্তু আমাদের দেশের দরিদ্র বিচারপ্রার্থীদের যখন নিজেদের দেওয়ানী অধিকার রক্ষার্থে অর্থের অভাবে আইনগত সহায়তা পান না অথবা আইনজীবি নিয়োগ দিতে পারেন না কিংবা আদালতে যাওয়া-আসার খরচ পর্যন্ত বহন করতে পারেন না তথা আইনগত সহায়তা পান না তখন মৌলিক অধিকারের এই সাংবিধানিক অঙ্গীকার অর্থহীন বলে মনে হয়। সুতরাং আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার।

সাধারণ ভাবে আইনগত সহায়তা অর্থ হচ্ছে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিগনকে তাদের আইনগত অধিকার রক্ষা এবং নিশ্চিত কল্পে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করা। 

২০০০ সালের আগ পর্যন্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরকারীভাবে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে বেশ কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (এনজিও) আইনী সহায়তা দিয়ে আসছিল। অবশেষে ২০০০ সালে Canadian Internation Development Agency'র সহযোগিতায় সরকার দরিদ্র বিচারপ্রার্থীর জন্য আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দশ্যে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০" পাশ করে।

পরবর্তীতে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম অধিকতর বেগবান হলে এবং দেশ ব্যাপি বিস্তৃতি লাভ করলে সরকার ২০১৩ সালে সুপ্রীম কোর্ট এ আইন সহায়তা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ অধিকতর সংশোধন পূর্বক আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন ২০১৩ পাস করে এর পূর্বে ২০১২ সালের ২রা মে শ্রমিকদের কে আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল চালু করা হয় যা ঢাকাস্থ শ্রম আদালত ভবনে (শ্রম পরিদপ্তর, শ্রম ভবন, ৪ রাজউক এভিনিউ, ঢাকা) অবস্থিত।

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ এর ২(ক) উপ-ধারা অনুযায়ী “আইনগত সহায়তা” অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে আইনগত পরামর্শ প্রদান, আইনজীবির ফিস প্রদান ও মামলার খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; 

(অ)  কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;

(আ) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর Section 89A এবং 89B এর বিধান অনুসারে মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান;

(ই) মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; এবং

(ঈ) উপ-ধারা (অ) হইতে (ই) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে আইনজীবীকে সম্মানী প্রদান;]

(খ) “আদালত” অর্থ সুপ্রীম কোর্টসহ যে কোন আদালত;

(গ) “আবেদন” বা “দরখাস্ত” অর্থ আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন বা দরখাস্ত;

(ঘ) “চেয়ারম্যান” অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(ঙ) “জেলা কমিটি” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত সংস্থার জেলা কমিটি;

(চ) “পরিচালক” অর্থ সংস্থার পরিচালক;

(ছ) “বিচারপ্রার্থী” অর্থ কোন আদালতে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত ২[দেওয়ানী, পারিবারিক বা ফৌজদারী মামলার] সম্ভাব্য বা প্রকৃত বাদী, বিবাদী, ফরিয়াদী বা আসামী।আইন গত সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্যতা (যারা সরকারি আইনি সেবা পেতে পারেন)।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প