বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রন সেবা

বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সমূহ:
১) কনডম;
২) খাবার বড়ি;
৩) আই-ইউ-সি-ডি;
৪) ডিপো প্রোভেরা;
৫) নরপ্লান্ট;
৬) টিউবাল লাইগেশন;
৭) ভ্যাসেক্টমি;
৮) আচরনগত পদ্ধতি (অসম্পুর্ন মিলন);
৯) প্রাকৃতিক পদ্ধতি (দিনপঞ্জিকা পদ্ধতি);
বাংলাদেশে নিম্নহারে জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহারের কারণ:
১) প্রেরণার অভাব;
২) সরবরাহের অপ্রতুলতা;
৩) ধর্মীয় বাঁধা;
৪) অজ্ঞতা;
৫) দুর্বল সরকারী নীতিমালা।
 
সেবা প্রদানঃ কমিউনিটি পর্যায়ে (গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে) পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিম্নলিখিত ব্যক্তি বর্গের দ্বারা প্রদেয়- ক) পরিবার কল্যান সহকারী খ) পরিবার পরিকল্পনা সহকারী গ) পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক থানা স্বাস্থ্য কম্প্লেক্স উন্নততর পরিবার পরিকল্পনা সেবা (যেমন বন্ধ্যা করন) প্রদান করে থাকে। সরকারের পাশাপাশি কিছু কিছু বেসরকারী সংস্থা ও গ্রামাঞ্চলে এবং সহরাঞ্চলে এই সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
 
খাদ্যঃ যে সকল বস্তু দ্বারা কোন জীব দেহের বৃদ্ধি ও সু্স্থতা বিধানের লক্ষ্যে পুষ্টি সাধিত হয় তাকে খাদ্য বলে।
খাদ্যের কাজঃ
১) তাপ উৎপান ও অন্যান্য কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে শক্তি উৎপাদন।
২) দেহের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
৩) প্রতিদিনের বিভিন্ন কারনে সৃষ্ট দেহের ক্ষতি পুরনে অত্যাবশ্যকীয়।
৪) দেহকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।
৫) সাধারনভাবে দেহের সকল কাজ ও প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
খাদ্যের উপাদান সমুহ:
১) আমিষ;
২) চর্বি;
৩) শর্করা;
৪) ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ;
৫) খনিজ পদার্থ;
৬) পানি;
৭) আঁশ।
খাদ্যের প্রধান উপাদান সমুহ:
১) আমিষ;
২) চর্বি;
৩) শর্করা।
খাদ্যের শ্রেণীবিভাগঃ প্রধান কাজ অনুসারে
ক) জালানী বা শক্তি উৎপাদক খাদ্য- এরা শর্করা এবং চর্বি প্রধান খাদ্য। যেমন- শস্য, চিনি, কন্দ ইত্যাদি।
খ) দেহ গঠনকারী- এরা আমিষ সমৃদ্ধ যেমন- মাংস, কলিজা, মাছ, দুধ, ডাল ইত্যাদি।
গ) প্রতিরোধমুলক খাদ্য- এরা আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ যেমন-দুধ, ডিম, কলিজা, সবুজ শাক সব্জি এবং ফলমুল।
 
উৎস অসুসারে
ক) প্রাণীজ- মাংস, দুধ, ডিম, মাছ ইত্যাদি।
খ) উদ্ভিজ- শস্যদানা, ডাল, শাকসব্জি ইত্যাদি।
 
খাদ্যের প্রধান উপাদান সমুহ
শর্করা
শ্রেণীবিভাগ:
ক) মনো স্যাকারাইড- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ
খ) ডাই স্যাকারাইড- ল্যাক্টোজ (দুধ)
গ) সুক্রোজ ঘ) পলিস্যাকারাইড-স্টার্চ।
উৎস: শস্যদানা, মূল ও কন্দ, আখ ইত্যাদি।
দৈনিক চাহিদা: ৩০০ গ্রাম।
মূল কাজ: ১) শক্তির উৎস ২) জারনক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
সম্পর্কিত অভাব জণিত বৈকল্য সমুহ: অপুষ্টি, ওজনহীণতা ইত্যাদি।
 
আমিষ
শ্রেণীবিভাগ:
ক) প্রথমশ্রেণীর আমিষ-প্রাণীজ আমিষ সমুহ
খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর আমিষ-উদ্ভিজ আমিষ সমুহ।
উৎস: ক) প্রাণীজ- মাছ, দুধ, ডিম, ইত্যাদি। খ) উদ্ভিজ- ডাল, তৈলবীজ ইত্যাদি।
দৈনিক চাহিদা: ১৫০ গ্রাম।
প্রধান কাজ:
১) দেহ গঠন
২) দেহের কলার মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন
৩) প্রোটিনজাতীয় পদার্থ তৈরি
৪) দেহের প্রতিরোধ্যতার জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
সম্পর্কিত অভাব বৈকল্য সমুহ:
ক) শিশু; পি ই এম, মানসিক প্রতিবন্ধিত্ব
খ) পুর্ণবয়স্ক- ওজনহীনতা, রক্ত স্বল্পতা, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
গ) গর্ভবস্থা: মৃত প্রসব, অকাল প্রসব, রক্ত স্বল্পতা।
চর্বি
শ্রেণীবিভাগ:
ক) সাধারন লিপিড; যেমন- ট্রাইগ্লিসারাইড
খ) যৌগিক লিপিড যেমন- ফসফোলিপিড
গ) উপজাত লিপিড; যেমন- কোলেস্টরল।
উৎস: ক) প্রাণীজ- দুধ ও দুধ থেকে তৈরি খাদ্য, ডিম, মাছ ও মাংশের চর্বি।খ) উদ্ভিজ: তৈলবীজ, ডাল, নারকেল ইত্যাদি।
দৈনিক চাহিদা: ২২ গ্রাম।
প্রধান কাজ:
১) উচ্চমাত্রার শক্তি উৎপাদক
২) চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিনের বাহক
৩) অত্যাবশ্যকীয় লিপিড জাতীয় পদার্ধ সংশ্লেষন করে।
সম্পর্কিত বৈকল্য সমুহ:
ক) আধিক্য জণিত: যেমন- স্থুলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি।
খ) অভাব জণিত: যেমন- ফ্রেনোডার্মা।
খনিজ
কিছু অজৈব পদার্থ যা মানবদেহের বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রনের জন্য স্বল্প পরিমানে প্রয়োজন।
খনিজ পদার্থের কাজ:
১) এরা কোষের আবশ্যিক গাঠনিক উপাদান;
২) দেহ রসের অভিস্রবনিক চাপ নিয়ন্ত্রন করে;
৩) অস্থি ও দাঁত গঠনে অপরিহার্য;
৪) স্নায়ু ও পেশী তন্ত্রের উদ্দিপনা নিয়ন্ত্রন করে;
৫) দেহের জলীয় সমতা রক্ষায় ভূমিকা পালন করে;
৬) গ্যাস পরিবহনে ভূমিকা পালন করে।
 
শ্রেণী বিভাগ: খনিজ পদার্থ সমুহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
১) প্রধান উপাদান- এসব পদার্থ দেহে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায় এবং এদের চাহিদাও বেশী। যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম, স্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সালফার এবং ক্লোরাইড।
২) স্বল্প পরিমানে প্রয়োজন এমন উপাদান (ট্রেস ইলিমেন্টস)- এরা দেহে অল্প মাত্রায় পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন ও অল্প মাত্রায়। যেমন- ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট, কপার, ফ্লুরিন, আয়োডিন, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, নিকেল, সেলেনিয়াম, সিলিকন, ভ্যানাডিয়াম ও জিংক।
 
সোডিয়াম
উৎস: খাবার লবন, শস্য, দুধ, ফলমুল ও শাক সব্জি।
দৈনিক চাহিদা: ৩.০ গ্রাম।
প্রধান কাজ:
১) দেহের প্রধান ভিত্তি;
২) বহিঃকোষীয় তরলের প্রধান আয়ন;
৩) পেশী-স্নায়ুর উদ্দিপনা নিয়ন্ত্রন করে;
৪) হৃদপিন্ডের ছন্দ নিয়ন্ত্রন করে।
সম্পর্কযুক্ত বৈকল্য:
ক) হাইপোনেট্রেমিয়া- যখন রক্তে সোডিয়ামের পরিমান কমে যায়।
খ) হাইপারনেট্রেমিয়া- যখন রক্তে সোডিয়ামের পরিমান বেড়ে যায়।
 
পটাশিয়াম
উৎস- শস্য, কলা, কমলালেবু, মুরগীর মাংস, গরুর মাংস, কলিজা, শাকসব্জি, পানি ইত্যাদি।
দৈনিক চাহিদা: ১.০ গ্রাম।
প্রধান কাজ-
১) সোডিয়ামের সাথে দেহের ভিত্তি তৈরি করে।
২) কোষের অভ্যন্তরের প্রধান ক্যাটায়ন।
৩) কোষের উত্তেজক কোষের কোষ পর্দার বিভব নিয়ন্ত্রন করে।
৪) হৃদপিন্ডের পেশীর ক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে।
৫) স্নায়ুর তাড়না প্রবাহে ভূমিকা পালন করে।
সম্পর্কিত বৈকল্য:
ক) হাইপার ক্যালেমিয়া- সিরামে পটাশিয়ামের পরিমান বেড়ে গেলে।
খ) হাইপো ক্যালেমিয়া-সিরামে পটাশিয়ামের পরিমান কমে গেলে।
ক্যালসিয়াম
উৎস: দুধ ও দুগ্ধজাত পন্য, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি, বাদাম, আলু, চাল ইত্যাদি।
দৈনিক চাহিদা: ১.২ গ্রাম।
প্রধান কাজ:
১) দাঁত ও অস্থি গঠনে সাহায্য করে
২) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে
৩) পেশী-স্নায়ু ক্রিয়া উদ্দিপনা নিয়ন্ত্রনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে
৪) হৃদপিন্ডের সংকোচন নিয়ন্ত্রন করে
৫) কোষ পর্দার মাধ্যমে পরিবহনে সাহায্য করে।
সম্পর্কিত বৈকল্যসমুহ:
ক) হাইপার ক্যালসেমিয়া- রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমান বেড়ে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
খ) হাইপো ক্যালসেমিয়া-রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমান কমে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ফসফরাস
উৎস: দুধ, পনির, ডিম, মাংস, বাদাম, মটর, শস্যদানা শাকসব্জি ইত্যাদি।
 
দৈনিক চাহিদা: ১.২ গ্রাম
প্রধান কাজ:
১) দাঁত ও অস্থি তৈরিতে অত্যাবশ্যকীয়
২) এটিপি তৈরিতে অপরিহার্য
৩) আর এন এ, ডি এন এ ও ফসফলিপিড সংশ্লেষনে অপরিহার্য
৪) বিপাক ক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
সম্পর্কিত বৈকল্য সমুহ- ফসফরাস জণীত রোগাবস্থা সম্পর্কে বেশী কিছু জানা যায়নি।
আদর্শ জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সমূহে নিম্নোক্ত সুবিধা গুলো থাকা প্রয়োজন-
১. পুরোপুরি কার্যকর হবে;
২. নির্ভরযোগ্য এবং কোনো ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন;
৩. সর্বসাধারন দ্বারা গৃহীত;
৪. স্বল্পমূল্য হওয়া উচিৎ এবং সহজলভ্য হওয়া উচিৎ;
৫. সহজে ব্যবহার যোগ্য;
৬. স্বাস্থ্য কর্মী বা হাসপাতাল নির্ভরতা যত কম হবে ততো ভালো।
নিম্নে পরিবার পরিকল্পনার কিছু পদ্ধতি:
  • কনডম;
  • জন্ম নিয়ন্ত্রণে খাওয়ার বড়ি;
  • ইন্ট্রাইউটেরাইন কন্ট্রাসেপটিভ ডিভাইস;
  • নরপ্লান্ট;
  • হরমোন ইনজেকশন;
  • ভ্যাসেকটমি;
  • লাইগেশন;
  • প্রাকৃতিক উপায়ে জন্ম নিয়ন্ত্রন;
  • যেসকল উপকরন বা যার মাধ্যমে গর্ভ সঞ্চারে বাধা প্রদান করা যায়, সেই সব উপকরন বা মাধ্যমকে জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি বলে। নারী ও পুরুষের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি রয়েছে।
জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতির প্রকারভেদ
জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গুলোকে প্রধানত: দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:   
ক) সনাতন পদ্ধতি;
খ) আধুনিকপদ্ধতি।
 
ক) সনাতনপদ্ধতিঃ
যে পদ্ধতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রনে ঐতিহ্যগত ভাবে সমাজে প্রচলিত আছে সেগুলোকে সনাতন পদ্ধতি বলে। যেমন:
  • প্রত্যাহার: স্বামীর বীর্য বাইরে ফেলা;
  • বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো;
  • নিরাপদকাল মেনে চলা;
  • নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকা বা আত্মসংযম।
খ) আধুনিকপদ্ধতিঃ
আধুনিক পদ্ধতিকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
১) নন-ক্লিনিক্যাল এবং
২) ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি।
১) নন-ক্লিনিক্যাল:
যে পদ্ধতি গুলো অন্যের সাহায্য ছাড়া নারী-পুরুষ নিজেই ব্যবহার করতে পারে সেগুলোকে নন-ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমনঃ
  • খাবারবড়ি;
  • কনডম।
২) ক্লিনিক্যাল:
যে পদ্ধতি গুলো ব্যবহারের জন্য নারী-পুরষকে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত সেবাদানকারীর সাহায্য নিতে হয় সেগুলোকে ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমন: অস্থায়ীপদ্ধতি এবং স্থায়ী পদ্ধতি।
অস্থায়ী পদ্ধতি
  • ইনজেকশন;
  • আই.ইউ.ডি;
  • নরপ্ল্যান্ট।
স্থায়ীপদ্ধতি
  • পুরুষ বন্ধ্যাকরন – ভ্যাসেকটমী;
  • নারী বন্ধ্যাকরন – টিউবেকটমি বা লাইগেশন।
খাবার বড়ির প্রকার, মাত্রা, কার্যপদ্ধতি এবং সুবিধা, অসুবিধা
খাবার বড়ির প্রকার ও মাত্রা
জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য বিভিন্ন প্রকারের খাবার বড়ি পাওয়া যায়। যেমন: নরকোয়েস্ট, ওভাষ্ট্যাট, ওভাকন, মারভেলন, সি-৫, সুখী। প্রত্যেক প্রকার বড়িতে হরমোনের মাত্রার পার্থক্য থাকতে পারে।
কার্যপদ্ধতি
ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ক হতে ও বের হতে বাধা দেয়।
সুবিধা
  • সাফল্যের হার বেশী;
  • অনাকাংখিত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়;
  • অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া যৌন সহবাস করা যায়;
  • মাসিক নিয়মিত হয়;
  • মাসিকের রক্তস্রাব কম হয়। মাসিকের ব্যাথা থাকলে তা কমে যায়;
  • নিয়মিত বড়ি খাওয়ার ফলে অনেক মহিলার স্বাস্থ্য ভাল হয়;
  • আয়রন বড়ির জন্য রক্তস্বল্পতা কম হয়;
  • ডিম্বাশয় ও জরাযু ঝিল্লিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। পি.আই.ডি (পেলভিসেরসংক্রমন) কম হয়;
  • বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে গর্ভধারন করা যায়।
অসুবিধা
  • প্রতিদিন মনে করে খেতে হয়;
  • যারা ধূমপান করে তাদের বেশী জটিল তা দেখা দেয়;
  • টিউমার বা জন্ডিস থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। মাসিকের পরিবর্তন ঘটতে পারে;
  • ওজন বেড়ে যেতে পারে;
  • মেজাজ খিটখিটে হয়;
  • পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়ার পর গর্ভধারণে দেরী হতে পারে;
  • এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নাই।
কার্যকারীতা
সাফল্যের হার বেশী, অনাকাংখিত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়।
কনডমের কার্য পদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা এবং কার্যকরীতা
কনডম রাবারের দ্বারা তৈরি চোঙ্গার মতো যার একদিক খোলা এবং একদিক বন্ধ বোঁটার মতো। এটি পুরুষের যৌনাঙ্গে পরতে হয়। বিভিন্ন নামে কনডম পাওয়া যায়। যেমন রাজা, সুলতান, প্যানথার, ম্যাজিষ্টিক, সেনসেশন।
কার্যপদ্ধতি
সহবাসের সময় পুরুষাঙ্গে কনডম ব্যবহারের ফলে শুক্রকীট নারীর জরাযুতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে শুক্রকীট ডিম্বানুর সংস্পর্শে আসতে পারেনা বলে নারী গর্ভবতী হয় না।
সুবিধা
  • যে কোন পুরুষ ব্যবহার করতে পারে;
  • কোন ডাক্তারের সহযোগীতা লাগেনা;
  • কনডম বেশ সস্তা এবং সব জায়গায় কিনতে পাওয়া যায়;
  • এইচআইভি/এইডস সহ নানা রকম যৌন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়;
  • যৌন সহবাস দীর্ঘায়িত হয়;
  • জন্মনিয়ন্ত্রনে পুরুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
অসুবিধা
  • প্রত্যেক সহবাসে ব্যবহার করতে হয়;
  • দু’জন সঙ্গীরই যথেষ্ট সহযোগিতা থাকা দরকার।
কার্যকারীতা
প্রতিবার সঠিক নিয়মে কনডম ব্যবহার করলে ৮৮% ভাগ পর্যন্ত কার্যকর হয়। শুক্র কীটনাশক ফেনা বড়ির সাথে ব্যবহার করলে প্রায় ৯৯% ভাগ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
 
ইনজেকশনের কার্যপদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা ও কার্যকরীতা
ইনজেকশন ২ প্রকার-DMPA সাদা রং এর দ্রবীভূত জলীয় পদার্থ, ১ ডোজ ১ টিভায়েলে থাকে।
কার্যপদ্ধতি
  • জরায়ুর মুখে শ্লেষ্মা তৈরী করে ফলে পুরুষের শুক্রকীট জরাযুতে ঢুকতে পারে না;
  • ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ক হতে ও বের হতে বাধা দেয়;
  • জরায়ুর ভিতরের গায়ে ঝিল্লীর পরিবর্তন করে, ফলে ডিম্ব জরায়ুতে বসতে পারে না।
সুবিধা
  • নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি;
  • ব্যবহার বিধি সহজ (৩মাসের জন্য);
  • রক্ত জমাট বাধার সমস্যা দেখা যায় না;
  • সহবাসের সাথে সম্পর্ক নাই;
  • গোপনীয়তা রক্ষা করে নেয়া যায়;
  • বন্ধ করলে গর্ভধারন করা যায়;
  • প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী দিতে পারে;
  • শিশুকেবুকেরদুধখাওয়ানোমাহলেওনেয়াযায়।
অসুবিধা
  • অনেকের ইনজেকশন নেয়ার ক্ষেত্রে ভয় থাকে;
  • নিজে নেওয়া যায় না।
কার্যকরীতা
অত্যন্ত কার্যকরী প্রায় ১০০% ভাগ এবং নিরাপদ জন্মনিরোধক পদ্ধতি।
আইইউডি বা কপারটির সুবিধা, অসুবিধা ও কার্যকরীতা
আইইউডি (IUD Intra Uterine Device) জরায়ুর ভেতরে ব্যবহারের জন্য একটি জিনিস যা জন্মনিয়ন্ত্রন করে। অনেক উন্নত ধরণের আইইউডি পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। বর্তমানে কপার-টি সবচাইতে জনপ্রিয়।
 
সুবিধা
  • ব্যবহার করা সহজ;
  • প্রতিদিন মনে করতে হয় না;
  • যৌন সঙ্গমে বাধা সৃষ্টি করেনা;
  • বুকের দুধ কমেনা;
  • যেকোন সময় খুলে ফেলা যায়;
  • খুলে ফেলার পর গর্ভধারনের ক্ষমতা ফিরে আসে;
  • কম খরচে বহু দিন জন্মনিরোধ করা যায়।
অসুবিধা: সুতা পরীক্ষা করতে হয়।
কার্যকারীতা
খুব বেশী কার্যকরী (৯৪-৯৮%) একটি সহজ ও দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী পদ্ধতি।
নরপ্ল্যান্টের কার্যপদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা, কার্যকারীতা
বর্তমানে একপ্রকার ৬ টি ক্যাপসূলে ১ ডোজ পাওয়া যায়।
কার্যপদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে ছয়টি ছোটছোট নরম চিকন ক্যাপসূল (দেয়াশলাই-এর কাঠির চেয়ে ছোট) মহিলাদের হাতের কনুইয়ের উপরে ভিতরের দিকে চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
 
সুবিধা
১. পদ্ধতিটি ৫ বছরের জন্য কার্যকর;
২. পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম;
৩. যেকোন সময় ডাক্তারের কাছে গিয়ে খোলা যায়।
অসুবিধা
১. নিয়মিত মাসিক না হওয়া বা অনেক দিন বন্ধ থাকে;
২. মাসিক বন্ধ হলে গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে;
৩. মাসিকের সময় রক্তস্রাব বেশী হতে পারে;
৪. দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে ফোঁটাফোঁটা রক্তস্রাব হতে পারে;
৫. মাথা ব্যথা;
৬. ওজন বেড়ে যাওয়া;
৭. মন বিষন্ন থাকা;
৮. মুখে বা শরীরে মেছতার দাগ থাকলে বেড়ে যেতে পারে এবং মুখে লোম দেখা দিতে পারে।
কার্যকারীতা: এটি একটি সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
পুরুষ বন্ধ্যাকরন বা ভ্যাসেকটমির সুবিধা, অসুবিধা ও কার্যকরীতাঃ
ভ্যাসেকটমি বা পুরুষ বন্ধ্যাকরন পুরুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ীপদ্ধতি। এতে শুক্রকীট বাহী নালী দুটির কিছু অংশ বেঁধে কেটে দেয়া হয়।
সুবিধা
১. অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ভয় না থাকায় সহবাসে আনন্দ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে;
২. তেমন কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই;
৩. আর কোন পদ্ধতি গ্রহণের ঝামেলা থাকে না।
অসুবিধা: যেহেতু স্থায়ীপদ্ধতি পরবর্তীতে সন্তান চাইলেও তা প্রায় অসম্ভব।
কার্যকরীতা
স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি। প্রায় ১০০% ভাগ কার্যকরী।
 
নারী বন্ধ্যাকরন-টিউবেকটমি/লাইগেশন
খুব ছোট অপারেশনের মাধ্যমে মহিলারে প্রজনন ক্ষমতাকে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করাই হচ্ছে ডিম্ববাহী নালী। জরায়ুর দুই ধারে দুটি ডিম্ববাহী নালী থাকে। সেই নালী দুটির কিছুটা অংশ বেঁধে কেটে দেয়াকে লাইগেশন বলে।
 
কার্যপদ্ধতি
ডিম্বাশয় থেকে ডিম্ব বের হয়ে শুক্রানুর সাথে মিলিত হতে পারেনা। ফলে গর্ভ সঞ্চার হয় না।
 
সুবিধা
অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ভয় না থাকায় সহবাসে আনন্দ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তেমন কোন পাশ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। আর কোন পদ্ধতি গ্রহণের ঝামেলা থাকেনা। গর্ভবতী হলে মৃত্যু ঝুঁকি আছে এমন নারীর জন্য খুবই প্রযোজ্য। আর সন্তান না চাইলে এই অপারেশন খুবই ভাল
 
অসুবিধা
যেহেতু স্থায়ী পদ্ধতি পরবর্তীতে সন্তান ধারন করতে চাইলেও তা সম্ভবনয়। অপারেশনের পর একরাত হাসপাতাল অথবা ক্লিনিকে থাকতে হয়।
 
কার্যকরীতা
স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি। প্রায় ১০০% ভাগ কার্যকরী।
 
পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা প্রাপ্তির জন্য যোগাযোগ
  • পরিবার পরিকল্পনা কর্মী;
  • স্বাস্থ্যকর্মী;
  • স্যাটেলাইট ক্লিনিক;
  • ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র;
  • মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র;
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স;
  • জেলা হাসপাতাল;
  • বেসরকারী ক্লিনিক।
খাবার বড়ির সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি?
সুবিধা:
  • অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া যৌন সহবাস করা যায়;
  • মাসিক নিয়মিত হয়;
  • মাসিকের রক্তস্রাব কম হয়। মাসিকের ব্যথা থাকলে তা কমে যায়;
  • নিয়মিত বড়ি খাওয়ার ফলে অনেক মহিলার স্বাস্থ্য ভাল হয়;
  • আয়রন বড়ির জন্য রক্তস্বল্পতা কম হয়;
  • ডিম্বাশয় ও জরাযু ঝিল্লিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। পি.আই.ডি (পেলভিসেরসংক্রমন) কম হয়;
  • বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে গর্ভধারন করা যায়।
অসুবিধা: 
  • প্রতিদিন মনে করে খেতে হয়;
  • যারা ধুমপান করে তাদের বেশী জটিলতা দেখা দেয়;
  • টিউমার বা জন্ডিস থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। মাসিকের পরিবর্তন ঘটতে পারে;
  • ওজন বেড়ে যেতে পারে;
  • মেজাজ খিটখিটে হওয়া;
  • পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়ার পর গর্ভধারণে দেরী হতে পারে;
  • এইচঅইভি/এইডস প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নাই।
 
তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প