ইউরিন ইনফেকশন

মেয়েদের অত্যন্ত কমন রোগ। এটা ছেলেদের হওয়া অস্বাভাবিক হলে অন্য কোন রোগ আছে কিনা খুঁজা উচিত মনে রাখবেন এই রোগে আপনার কিডনী নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

লক্ষণঃ

  • প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া;
  • প্রস্রাবে বাজে গন্ধ;
  • একটু পর পর প্রস্রাব লাগা কিন্তু ঠিক মতো না হওয়া;
  • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা পোড়া বা ব্যথা করা;
  • তলপেটে বা পিঠে তীব্র ব্যথা;
  • সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব অথবা কাঁপুনি দিয়ে ঘন ঘন জ্বর হওয়া;
  • বমি ভাব বা বমি হওয়া;
  • মাথাব্যথা।

করণীয়ঃ

  • প্রচুর পানি খাওয়া;থাকলে প্রতিদিন কম পক্ষে ৮ আউন্স পানি খাওয়া উচিত;
  • ডাবল voiding এর অভ্যাস গড়ে তুলোন;
  • ভিটামিন সি;প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান;
  • আনারস;প্রতিদিন এক কাপ আনারসের রস খান;
  • বেকিং সোডা।

১/২ চা চামচ বেকিং পাউডার এক কাপ পানিতে ভালো করে মিশিয়ে দিনে একবার করে খান

যা করবেন নাঃ

১) প্রস্রাব চেপে রাখবেন না;

২) স্বামী সহবাসের সঠিক নিয়ম মেনে না চলা;

৩) পায়খানার পর নিয়ম না জেনে পানি ব্যবহার করা।

প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে

পিঠের নিচের অংশে মেরুদণ্ডের ঠিক দুই পাশে দুটি কিডনির অবস্থান। মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত দুটি কিডনি বিরামহীনভাবে কাজ করতে থাকে। প্রতিটি কিডনির ভেতরে নেফরন নামের প্রায় ১০ লাখ ছাঁকনি থাকে, যার প্রতিটি আলাদাভাবে কাজ করে।দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি ইউরিনারি ব্লাডার (মূত্রথলি)এবং ইউরেথ্রা (মূত্রনালি) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। মূত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশে জীবাণু সংক্রমণ হলে তাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বলে। কিডনি, মূত্রনালি বা মূত্রথলি অথবা একাধিক অংশে একসঙ্গে ইনফেকশন হতে পারে।

লক্ষণ

  • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা;
  • ঘোলা, গাঢ় হলুদ বা লাল প্রস্রাব হওয়া;
  • তলপেটে বা পিঠের দিকে তীব্র ব্যথা;
  • জ্বর অথবা কাঁপুনি হয়ে জ্বর হওয়া;
  • বমি ভাব বা বমি হওয়া প্রভৃতি এক বা একাধিক উপসর্গ হতে পারে।

চিকিৎসা

প্রস্রাবের কালচার পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা নিতে হবে। জটিল ধরনের ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের (পায়েলোনেফ্রাইটিস) ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিতে হতে পারে। যাঁরা ছায়াযুক্ত স্থানে কাজ করেন, তাঁদের দৈনিক তিন লিটার পানি পান করাই যথেষ্ট। আর যাঁরা রোদে বা বাইরে কাজ করেন, তাঁদের প্রয়োজন অনুসারে বেশি পানি পান করতে হবে। তবে অতিউৎসাহী হয়ে অনেক বেশি (পাঁচ লিটারের চেয়ে বেশি) পানি পান না করাই ভালো। অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে খেতে হবে এবং সম্পূর্ণ কোর্স খেতে হবে। ইচ্ছামতো অসম্পূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক খেলে জীবাণুগুলো রোগ-প্রতিরোধী (RESISTANT) হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই আর কাজ হয় না।

প্রতিরোধ

  • নিয়মিত ও পরিমিত পানি পান করা
  • প্রস্রাব আটকে না রাখা;
  • প্রস্রাবের পর যথেষ্ট পানি ব্যবহার করা;
  • শারীরিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা;
  • পরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস পরিধান করা;
  • শারীরিক মিলনের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ ও ৪টি ঘরোয়া চিকিৎসা

আমরা যখন পানি খাই তখন তা কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে মূত্রনালি দিয়ে মূত্র হিসেবে বের হয়ে যায়। মানুষের শরীরের দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি ইউরিনারি ব্লাডার (মূত্রথলি) এবং ইউরেথ্রা (মূত্রনালি) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। আর এই মুত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয় তাহলে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বলা হয়। কিডনি, মূত্রনালি বা মূত্রথলি অথবা একাধিক অংশে একসঙ্গে এই ধরণের ইনফেকশন হতে পারে। এই ইনফেকশনকেই সংক্ষেপে ইউরিন ইনফেকশন বলা হয়। সাধারণত এই সমস্যাটি নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যে হলেও নারীদের মধ্যে ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

ইউরিন ইনফেকশন হলে যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেগুলো হলো-

  • প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া;
  • প্রস্রাবে বাজে গন্ধ;
  • একটু পর পর প্রস্রাব লাগা কিন্তু ঠিক মতো না হওয়া;
  • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা পোড়া বা ব্যথা করা;
  • তলপেটে বা পিঠে তীব্র ব্যথা;
  • সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব অথবা কাঁপুনি দিয়ে ঘন ঘন জ্বর হওয়া;
  • বমি ভাব বা বমি হওয়া।

ইউরিন ইনফেকশনের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার আছে যেগুলো মেনে চললে নিস্তার পাওয়া সম্ভব এই সমস্যা থেকে। আসুন জেনে নেয়া যাক ইউরিন ইনফেকশনের ঘরোয়া প্রতিকার গুলো সম্পর্কে।

প্রচুর পানি খাওয়া

ইউরিন ইনফেকশন হলে কিংবা ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা থাকলে প্রতিদিন কম পক্ষে ৮ আউন্স পানি খাওয়া উচিত। কিছুক্ষন পর পর এক গ্লাস করে পানি খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইউরিন ইনফেকশন ভালো করে ফেলা যায়। বিশেষ করে প্রসাবে হলুদ ভাব দেখা গেলেই দেরি না করে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া শুরু করা উচিত। আর যাদের প্রায়ই এই সমস্যা হয় তাঁরা সব সময়েই একটু বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করবেন। সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পর প্রস্রাব হওয়া উচিত। প্রস্রাব হতে এর চাইতে বেশি দেরি হলে বার বার পানি খেতে থাকুন। বাসার বাইরে গেলেও সব সময় পানি রাখুন সাথে।

ভিটামিন সি

ইউরিন ইনফেকশন হলে অনেক ডাক্তারই রোগীদেরকে দৈনিক ৫০০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ভিটামিন সি মুত্রথলীকে ভালো রাখে এবং প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ভাব কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন সি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সহায়তা করে। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।

আনারস

আনারসে আছে ব্রোমেলাইন নামক একটি উপকারী এঞ্জাইম। গবেষণায় দেখা গেছে যে ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত রোগীদেরকে সাধারণত ব্রোমেলাইন সমৃদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয় এবং তা ইউরিন ইনফেকশন ভালো করে দেয় খুব দ্রুত। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রতিদিন এক কাপ আনারসের রস খান।

বেকিং সোডা

ইউরিন ইনফেকশন সাধারণত দুই দিনের বেশি সময় থাকে। আর এই সময়ে ইনফেকশন কিডনিতে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ইউরিন ইনফেকশন সারিয়ে ফেলা উচিত। বেকিং সোড়া দ্রুত ইউরিন ইনফেকশন সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। ১/২ চা চামচ বেকিং পাউডার এক কাপ পানিতে ভালো করে মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমে এবং ইউরিন ইনফেকশন দ্রুত ভালো হয়।

 

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প