অটিজম

“অটিজম” বা “অটিস্টিক” শব্দটার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। কিন্তু বিষয়টা সম্পর্কে কে কতটুকু জানে বা জানাটা কতটুকু স্বচ্ছ সে ব্যাপারে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে। গ্রামে কিছুদিন পূর্বে কিংবা বলা যেতে পারে এখনও মনে করা হয় অটিস্টিক শিশুরা ও ব্যাক্তিরা জিন বা ভুতের আছরের শিকার। কিংবা এও মনে করা হয় তারা পাগল। শুধু গ্রাম কেন শহরের অনেক স্থানে এই ধারনা বা এই চিত্র বিদ্যমান। অনেক ডাক্তারও এ বিষয় নিয়ে তাদের জ্ঞানকে অপ্রতুল মনে করেন। অনেক পরিবার বা ব্যাক্তি আছেন যারা অটিজম বা অটিস্টিক শব্দটির সাথে তখন পরিচিত হয়েছেন যখন তারা জানতে পেরেছেন যে তাঁদের পরিবারে বা তাঁদের কাছাকাছি কেউ এই অটিজম নামক সমস্যার মধ্যে অবস্থান করছে। অটিজম কি সমস্যা? হ্যাঁ এটা একটা সমস্যা। মনবিকাশগত সমস্যা। অনেকে এটাকে রোগ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু  অটিজম কোনভাবেই রোগ নয়।
 
অটিজম কোন রোগ, বংশগত  বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক  সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে  নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার   বলে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অটিজমের লক্ষণগুলো একদম শৈশব থেকেই, সাধারণত তিন বছর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে। অটিজমে আক্রান্তরা সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়। মানসিক সীমাবদ্ধতা ও একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত শিশু কারো সাথেই, সে সমবয়সী হোক কিংবা অন্য যে কোনো বয়সী কারো সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। এরা অনেকেই আকার ইঙ্গিতে কথা বলতে পছন্দ করে।  এ ধরণের শিশু আপন মনে থাকতে পছন্দ করে। নিজের ইচ্ছের মত চলে। যখন যা করতে ইচ্ছে হয় তা করতে না পারলে এদের খিঁচুনি ভাব হয়। এরা কারো চোখের দিকে তাকায় না। কারো সাথে নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র শেয়ার করতে চায় না।  কারো দিকে তাকিয়ে হাসে না কিংবা আদর করলেও ততটা সাড়া দেয় না। অনেকে আবার আদর ও পছন্দ করে না। সাধারণভাবে অটিষ্টিক শিশুরা একই কথা বারবার বলে এবং একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করে। তবে অটিস্টিক শিশুরা সব একই রকম আচরন করবে টা ঠিক নয়।
 
যাই হোক অটিজম বিষয়টি দিন দিন একটা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।কেননা অটিজম সারাবিশ্বে দিন দিন বিস্তার লাভ করছে। অটিস্টিকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। একটা জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে ১৬-১৭ হাজারেরও বেশি অটিস্টিক শিশু আছে। তবে ডোর টু ডোর হিসেব করলে এর সংখ্যা আরও বেশি।বোঝাই যাচ্ছে সারাবিশ্বসহ বাংলাদেশেও এর হার দিন দিন বেড়েই চলছে।অথচ অটিজম চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক পিছিয়ে।
 
অটিজমের লক্ষণ, প্রতিকার, কারন জেনে তার যথাযথ চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। সচেতনতা দিয়ে টা প্রতিরোধের ব্যাবস্থা চলছে। আর তাই এই রিপোর্টের মাধ্যমে অটিজম কি? তার লক্ষণ,প্রতিরোধ,, প্রচলিত চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
 
উদ্দেশ্যঃ বিশ্বব্যাপী অটিজম নিয়ে বহুল গবেষণা, আলোচনা চললেও আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অটিজম এখনও জিন বা ভূতের আছর কিংবা পাগলের মধ্যে সিমাবদ্ধ।যেখানে উন্নত বিশ্বে এর চিকিৎসার উপর জোর দেয়া হচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে ফকির বা ওঝার শরনাপন্ন হতে হচ্ছে। এমনকি অটিজমের ধরণ বা লক্ষণ সম্পর্কে অবগত নয় অনেকেই।পরিবার বা ব্যাক্তির ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ও অনুশীলনের মাধ্যামে অটিজম প্রতিরোধ করা একটু হলেও সম্ভব। এই রিপোর্টের মাধ্যমে অটিজম সম্পর্কে ধারনা তার লক্ষণ, বিদ্যমান চিকিৎসা, অটিস্টিক শিশুদের বৈশিষ্ট্য, অটিজমের প্রকারভেদ ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে অটিজম সম্পর্কে গনসচেতনা সৃষ্টি করে অটিস্টিক শিশুদের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করাই উদ্দেশ্য।
 
অটিজম কীঃ অটিজম (Autism) একটি ছোট শব্দ কিন্তু এর গভীরতা ব্যাপক। বর্তমানে অনেকেই এ শব্দের সাথে পরিচিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফুটফুটে এ সকল শিশুদের হঠাৎ করে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, কি তাদের সমস্যা। কারণ অটিস্টিক শিশুদের চেহারা বা অবয়ব স্বাভাবিক শিশুদের মতো এবং সাধারণত তাদের শারীরিক কোন সমস্যা থাকে না।অটিজম যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় নিজের মধ্যে মগ্ন ব্যক্তি। অর্থাৎ যে ব্যক্তি একা একা নিজের মনে, নিজের জগতে বিচরণ করে কারও সাথে কথা বলে না, কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয় না।
 
অটিজম হচ্ছে স্নায়ু সংক্রান্ত একাধিক বিকাশজনিত জটিলতা যা শিশুর ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। যার কারণে শিশুর স্নায়ু সংক্রান্ত ক্রিয়া ও ধী-শক্তির সুষ্ঠু বিকাশ ব্যাহত হয়।সহজ ভাবে বললে বলা যায় যে অটিজম একটি মানসিক বিকাশগত সমস্যা যা সাধারনত জন্মের পর প্রথম তিন বছরের মধ্যে হয়।এই সমস্যার জন্য সামাজিক বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগ যেমন কথা বলা ভাব বিনিময় করার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক সমস্যার দরুন মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হওয়াকে অটিজম বলা যায়।
 
অটিজম কি রোগ? এর উত্তর হল না। অটিজম কোন রোগ, বংশগত  বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক  সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে  নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার   বলে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অটিজমের লক্ষণগুলো একদম শৈশব থেকেই, সাধারণত তিন বছর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে। অটিজমে আক্রান্তরা সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়। মানসিক সীমাবদ্ধতা ও একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত শিশু কারো সাথেই, সে সমবয়সী হোক কিংবা অন্য যে কোনো বয়সী কারো সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। এরা অনেকেই আকার ইঙ্গিতে কথা বলতে পছন্দ করে।  এ ধরণের শিশু আপন মনে থাকতে পছন্দ করে। নিজের ইচ্ছের মত চলে। যখন যা করতে ইচ্ছে হয় তা করতে না পারলে এদের খিঁচুনি ভাব হয়। এরা কারো চোখের দিকে তাকায় না। কারো সাথে নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র শেয়ার করতে চায় না।  কারো দিকে তাকিয়ে হাসে না কিংবা আদর করলেও ততটা সাড়া দেয় না। অনেকে আবার আদর ও পছন্দ করে না। সাধারণভাবে অটিষ্টিক শিশুরা একই কথা বারবার বলে এবং একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করে।
 
অটিজমের সংজ্ঞাঃ
Wikipedia, the free encyclopedia তে বলা হয়েছে;
Autism is a neurodevelopment disorder characterized by impaired social interaction, verbal and non-verbal communication, and by restricted and repetitive behavior. The diagnostic criteria [2] require that symptoms become apparent before a child is three years old.[3] Autism affects information processing in the brain by altering how nerve cells and their synapses connect and organize; how this occurs is not well understood.
 
১লা আগস্ট এ Medical News Today তে Christian Nordqvist লেখেন;
ASD stands for Autism Spectrum Disorder and can sometimes be referred to as Autistic Spectrum Disorder. In this text Autism and ASD mean the same. ASDs are any developmental disabilities that have been caused by a brain abnormality. A person with an ASD typically has difficulty with social and communication skills.
 
A person with ASD will typically also prefer to stick to a set of behaviors and will resist any major (and many minor) changes to daily activities. Several relatives and friends of people with ASDs have commented that if the person knows a change is coming in advance, and has time to prepare for it; the resistance to the change is either gone completely or is much lower.
 
National institute of neurological disorder and stroke এর একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে;
Autism spectrum disorder (ASD) is a range of complex neurodevelopment disorders, characterized by social impairments, communication difficulties, and restricted, repetitive, and stereotyped patterns of behavior.  Autistic disorder, sometimes called autism or classical ASD, is the most severe form of ASD, while other conditions along the spectrum include a milder form known as Asperger syndrome, and childhood disintegrative disorder and pervasive developmental disorder not otherwise specified (usually referred to as PDD-NOS).  Although ASD varies significantly in character and severity, it occurs in all ethnic and socioeconomic groups and affects every age group.  Experts estimate that 1 out of 88 children age 8 will have an ASD (Centers for Disease Control and Prevention: Morbidity and Mortality Weekly Report, March 30, 2012).  Males are four times more likely to have an ASD than females.
 
National autistic society এর ভাষ্য অনুযায়ী;  
Autism is a lifelong developmental disability that affects how a person communicates with, and relates to, other people. It also affects how they make sense of the world around them
 
যুক্তরাজ্য থেকে অটিজম ও লার্নিং ডিসএবিলিটি তে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অকুপেশনাল থেরাপিস্ট উম্মে সায়কা নিলা বলেন; অটিজম একটি মানসিক বিকাশগত সমস্যা যা সাধারনত জন্মের পর প্রথম তিন বছরের মধ্যে হয়।এই সমস্যার জন্য সামাজিক বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগ যেমন কথা বলা ভাব বিনিময় করার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
 
উপরোক্ত সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট যে অটিজম কোন রোগ নয়। এটি মূলত একটি স্নায়ুবিক সমস্যা।এবং এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগকে ব্যাহত করে সেই সাথে আচরনের স্বাভাবিক বিকাশ কে ব্যাহত করে থাকে। অটিজমের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে  নিম্নোক্ত বিষয় গুলো স্পষ্ট হয় –
  • অটিজম কোন রোগ নয়।
  • সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
  • অটিজম হচ্ছে সমষ্টিগত, গুরুতর বিকাশজনিত সমস্যা
  • শিশুর ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।
  • অটিজম কোন রোগ , বংশগত  বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক  সমস্যা।
  • সামাজিক বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগকে ব্যাহত করে
  • এটা জীবনব্যাপী
  • প্রতিরোধযোগ্য

 

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প