অটিজমের প্রকারভেদ

অটিজমকে মোট পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। ‘ডায়গনষ্টিক এন্ড স্ট্যাটিষ্টিকাল ম্যানুয়েল অব মেন্টাল ডিসঅর্ডাস ডি এস এম-ফোর-টিআর’ (চতুর্থ সংস্করণ)-এ অটিজমের এই তালিকা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
 
১। ক্লাসিক্যাল অটিজম: ক্লাসিক্যাল অটিজম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে অটিজমের প্রধান তিনটি শিষ্টের সবগুলোই থাকে। যেমন:
(ক) এদের ভাষার বিকাশের সমস্যা
(খ) অন্যের সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলাতে সমস্যা
(গ) এরা অন্য শিশুদের মত খেলেনা এবং এদের মধ্যে অনাবশ্যক কোন বস্তু প্রীতি সৃষ্টি হয় অর্থাৎ কোন একটি বস্তু ধরলে সেটার প্রতি তার মনোযোগ নিবিষ্ট রাখে। ক্লাসিক্যাল অটিজমের কারণে শিশুর মধ্যে কোন কিছু শিখতেও সমস্যা হয় এবং কেউ কেউ পুণরাবৃত্তি মূলক অঙ্গভঙ্গি যেমন-অনবরত হাত পা দোলানো, চুলটানা, হাত কামড়ানো, মাথায় আঘাত করার মত আচরণ করতে থাকে।
 
২। এসপারজার সিনড্রোম: এসপারজার সমস্যার শিশুদের মধ্যে
(ক)  ভাষার বিকাশ সময় মত ঘটে।
(খ)তাদের বুদ্ধিমত্তা সাধারণত: স্বাভাবিক কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায়  অনেক বেশি থাকে।
(গ) সামাজিক  কার্যকলাপে পিছিয়ে থাকে। এরা বস্তু বা ঘটনার সুশৃংখলতার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করে অর্থাৎ ঘরের কোন বস্তু যেমন- টেবিল, চেয়ার, বা অন্য  যেকোন জিনিস যেভাবে  রাখা হয় তার সেভাবেই থাকতেই হবে। ব্যতিক্রম ঘটলে সেটা পছন্দ করে  না।
 
৩। পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার নট আদারওয়াইজ স্পেসিফাইড : ক্লাসিক্যাল অটিজম এবং  এরপারজার লক্ষণ এর মধ্যে কিছু লক্ষণ যেগুলো একত্রে অবস্থান করে তাদের শ্রেণী করণে সমস্যা দেখা দেয়। এরূপ অবস্থায় আক্রান্ত শিশুকে অটিজমের কোন বিশেষ শ্রেণীভূক্ত করা যায় না। সেকারণে বিশেষজ্ঞরা এরূপ মিশ্র সমস্যাকে পরিব্যাপক বিকাশমূলক বিকৃতি যা অন্যভাবে নিরূপন যোগ্য নয় বা পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার নট আদারওয়াইজ স্পেসিফাইড (পিডিডি-এনওএস) বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই বিকৃতি অতি শৈশবে ধরা পরে। তবে তিন বছর পর থেকে এর পরিপূর্ণ রূপ প্রকাশ পায়। পিডিডি-এনওএস এর লক্ষণের মধ্যে।
ক) এদের ভাষার ব্যবহার ও বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।
খ) আই কণ্টাক্ট ও কোন কিছু নির্দ্দিষ্ট করে দেখাতে সমস্যা হয়।
গ) খেলনা নিয়ে খেলতে পারেনা।
ঘ) পরিচিত পরিবেশ ও রুটিন পরিবর্তনে সমস্যা হয়।
ঙ)  অঙ্গ সঞ্চালনে পুনরাবৃত্তি করে।
 
৪।  রেট সিনড্রোম (জবঃঃ ঝুহফৎড়সব): এটাও শৈশবকালীন মস্তিস্কের স্নায়ুবিক বিকাশমূলক সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা জন্ম থেকেই ছয়মাস বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বিকাশ ঘটে। ছয়মাস থেকে আঠার মাস বয়সের মধ্যে যেকোন সময় থেকে অটিজমের লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া শুরু করে। রেট আক্রান্ত  শিশুটির  মানসিক ও সামাজিক বিকাশ দ্রুত গতিতে কমে আসে। এক সময় দেখা যায় শিশুটি বাবা মার ডাকে সাড়া দেয় না, শিশুটি কথা বলা বন্ধ করে দেয়, সামাজিক আচারণ করে না, শরীর সঞ্চালনের  উপর নিজের নিয়ন্ত্রন হারায়। সাধারণত মেয়ে শিশুদেরই রেট সিনড্রোম এ আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
 
রেট লক্ষণ চারটি স্তরে বিকশিত হয়। যথা:
ক) প্রথম স্তর: এই স্তর ছয় থেকে আঠার মাসের মধ্যেই শুরু  হয়।এই স্তরে আই কণ্টাক্ট কমে যায়, খেলনার প্রতি আগ্রহ দেখায় না, স্থুল পেশীর বিকাশ ধীর হয় ফলে বসতে ও দাঁড়াতে অনেক সময় নেয়।
খ) দ্বিতীয় স্তর: এই স্তরে এক থেকে চার বছরের মধ্যে এর প্রকাশ ঘটে। এই সময়ে হাতের বিশেষ কোন দক্ষতা এবং কথা বলার ক্ষমতা লোপ পায়। এই সময়ে হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে পিছনে  বা পাশে রাখে। হঠাৎ এটা ওটা স্পর্শ করে। কারও কারও শ্বাসেরও বিশৃংখলা দেখা  দেয়।
 
গ) তৃতীয় স্তর: এই স্তরে দুই থেকে দশ বছরের মধ্যে দেখা দেয়। দৈহিক অঙ্গ সঞ্চালন ও খিঁচুনী এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট। এই স্তরে আক্রান্ত ব্যক্তি তার পরিবেশের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। এবং যোগাযোগ দক্ষতায় উন্নতি হয়। ঘ) চতুর্থ স্তর: এই স্তরে পেশীর দুর্বলতা বা কাঠিন্য সমস্যা উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
 
৫। সিডিডি শৈশবকালীন সমন্বয়হীনতার বিকৃতি: এই সমস্যা চেনার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো যে শিশু দুই বছর বয়স পর্যন্ত অত্যন্ত স্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে উঠে এবং তার মধ্যে বয়সোপোযোগী যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতায় বিকাশ ঘটতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ করে সিডিডি লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। প্রথমে সবচেয়ে প্রকটভাবে যে লক্ষণ দেখা যায় তা হলো শিশু কথা বলা বন্ধ করে দেয় এবং অতি শৈশবের এক শব্দের কথায় ফিরে আসে। শিশুর পেশী নিয়ন্ত্রন, ভাষা ও সামাজিক কার্যকলাপে দক্ষতাও কমে আসে। এছাড়া পাকস্থলী ও মূত্রাশয়ের উপর কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না। সিডিডি এর ক্ষেত্রে কখনো কখনো খিঁচুনীও দেখা যায়। সিডিডির ক্ষেত্রে হারানো দক্ষতাগুলো প্রশিক্ষণ ও চর্চার ফলে কখনো ফিরে আসে না।
 
তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প