সফল নারী দেলোয়ারা বেগম

চেষ্টায় সব হয়। চেষ্টা, ইচ্ছাশক্তি আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো সমন্বয় থাকলে যে জীবণ যুদ্ধে জয়ী হওয়া য়ায় তা বাস্তবে প্রমাণ করে দিয়েছেন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পাটিচরা ইউনিয়নের ডোহানগর গ্রামের হতদরিদ্র নারী দেলোয়ারা বেগম (৪০)। ছাগল ও গরু পালন করে তিনি জীবণের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। জয় করেছেন দারিদ্রতাকে। চেষ্টা, শ্রম আর প্রবল ইচ্ছা শক্তিকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন একটি স্বপ্নের আবাস। দিনমজুর স্বামী নুরুল ইসলামের সহযোগিতায় একটি ছাগল থেকে ৬টি গরু ও ১১টি ছাগল করেছেন। একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেলোয়ারা বেগম আলাপ চারিতায় জানান, ২৫ বছর আগে দরিদ্র দিনমজুর স্বামী নূরুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। কিভাবে দারিদ্রতাকে দূর করে সংসারে সমৃদ্ধি নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে তারা চিন্তা করেন এবং ছাগল পালনের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের ১বছরের মাথায় সামান্য সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে দুইটি ছাগল ক্রয় করেন। এর দুই বছর পর ছাগল বিক্রয় করে একটি গাভী ক্রয় করেন। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে বাড়িতে গরু ও ছাগলের সংখ্যা। বর্তমানে বাড়িতে ছয়টি গরু ও ১১টি ছাগল আছে। এদের মধ্যে দুইটি গাভী প্রতিদিন তিন লিটার করে দুধ দিচ্ছে। দুধ বিক্রয়ের টাকা ও স্বামীর দিনমজুরের টাকাসহ গড়ে দুইশত ৫০ টাকা প্রত্রিদিন আয় হচ্ছে। যা দিয়ে সংসারের খরচ মিটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়ালেখার খরচ বহন করে থাকেন। গত ২৫ বছরের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ১২শতক জায়গা ক্রয় করেছেন। তৈরি করেছেন একটি আধা-পাকা বাড়ি।

তিনি আরো জানান, সংসারে বর্তমানে অভাব নেই। নিজেরা লিখাপড়া না জানায় সন্তান দুটিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান। ছেলে রবিউল ইসলাম নজিপুর সরকারি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স ২য় বর্ষে অধ্যয়ন করছে। একমাত্র মেয়ে একই কলেজে বিএ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে। দেলোয়ারা বেগম এলাকার একজন সফল নারী হিসাবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তার সাফল্যয় অনুপ্রাণিত হয়ে আরো কয়েকটি পরিবার গরু-ছাগল পালনে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংসারে সমৃদ্ধি ফিরে এনেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প