মাধ্যমিক স্কুল পরিচালনার আইনগত ভিত্তি

শিক্ষা যে কোন দেশের বহুবিধ কর্মক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম। শিক্ষার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সকল দেশেই একটি সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো রযেছে। এই কাঠামোটি দেশের সরকার কর্তৃক প্রনীত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা রূপ লাভ করে এবং শিক্ষানীতিমালা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বর্ণিত কাঠমোর আওতায় ও ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। জনগণের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা শাসনতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রিীয় দায়িত্ব। সরকার শিক্ষানীতি, পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন, গবেষণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও তার পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল প্রকার আইন জারির এবং বিধিবিধান প্রণযন ও কার্যকর  করার ক্ষমতা রাখেন। উক্ত আইন ও বিদান বলে প্রদত্ত ক্ষমতা বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে অর্পণের অধিকার ও সরকার সংরক্ষণ করে। এই সকল আইন ও বিধিবিধানের সমন্বয়ে গড়ে উঠে স্কুল পরিচালনার আইনগত ভিত্তি।

আইন ও বিধিবিধান জানার প্রযোজনীয়তা
শিক্ষাক্ষেত্রে সু-ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর প্রশাসন নিশ্চিত করা শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত। শিক্ষার ক্ষেত্রে সুষ্ঠ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য, নীতিমালা এবং বিধিবিধানসমূহ সম্পর্কে অবহিত থাকা জরুরী। আইন, তথ্যাবলী, নীতি ও বিধিবিধান, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার ভিত্তিস্বরুপ।

স্কুল পরিচালনার বিধিবিধান সমূহের উৎস
স্কুল পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিবিধানের উৎস প্রধানতঃ দুইটি। 1) কেন্দ্রীয় প্রশসনিক কর্তৃপক্ষ, 2) স্কুল কর্তৃপক্ষ
কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ – শিক্ষার যে কোন স্তরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্কুল পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক প্রণীত ও জারিকৃত আইন, বিধিবিধান রযেছে। এই সকল আইন ও বিধিবিধান এর মূল উৎস আবার দেশের সংবিধান ও শিক্ষানীতি। শিক্ষানীতিতে বিবৃত লক্ষ্য, লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্ধারিত কলাকৌশল এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাব্যবস্থা বিষয়ক সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন ও জারি করা জরুরী হয়ে উঠে। এই সকল আইন ও বিধিবিধান কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বলতে সাধারণত মন্ত্রণালয় বোঝায়। মন্ত্রণালয় তার অধীনস্ত দপ্তর/অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই সকল জারি করতে পারে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ – কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে যে সকল আইন ও বিধিবিধিান প্রনীত হয় সেই সকল সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্কুলে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নীতিমালা প্রনয়ন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

আইন ও বিধিবিধানের ধরণ
আইন ও বিধিবিধানের নানা প্রকার ও ধরণ রযেছে। এগুলো হচ্ছে 1) আইন 2) বিধি 3) প্রবিধি 4) অধ্যাদেশ 5)সিদ্ধান্ত 6) নির্বাহী আদেশ 7)পরিপত্র 8) পত্র 9) সরকারি আদেশ 10) প্রশাসনিক আদেশ 11) অফিস আদেশ

সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধানসমূহ

সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধিানের মধ্যে প্রদান কয়েকটি নীচে উল্লেখ করা হলোঃ

  1. চাকুরীর সাধারণ শর্তাবলী
  2. সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি 1979
  3. সরকারি কর্মচারী শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা 1985
  4. ছুটিবিধি (1959)
  5. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও কারিকুলাম বোর্ড কর্তৃক প্রণীত শিক্ষাক্রম ও এতসংক্রান্ত বিধিবিধান
  6. বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডসমূহ কর্তৃক প্রণীত শিক্ষার্থী মূল্যায়ন সংক্রান্ত সকল বিধি –প্রবিধি ও নিয়ম নীতি।
  7. সাধারণ আর্থ বিধিমালা

বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রধান প্রধান বিধিবিধানসমূহ

বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসাসমূহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যার 98%। এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নীতিমালা ও বিধিবিধান প্রণীত হযেছে। এছাড়াও বিভিন্ন নির্দেশনা, সার্কুলার, আদেশ, সিদ্ধান্ত ইত্যাদি জারি করা হয়েছে।

ক) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রদান ও নবায়নের নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং শা-4/32/88/524 –শিক্ষা, তারিখ, 12-04-1989 ইং। এতে জারিকৃত আদেশ বলে উপরোক্ত নীতিমালা কার্যকর করা হয়। আদেশের ভিত্তিতে অধিদপ্তর ও বোর্ডসমূহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি(অনুদান ব্যতীত) দিতে ও নবায়ন প্রদান করতে পারবে বলে স্মারকে উল্রেখ করা হয়।

এই নীতিমালায় স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য বিবেচ্য বিষয়সমূহের বর্ণনা রয়েছে। বিষয়সমূহ নিম্নরূপঃ

  • স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অপরাপর মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে দুরত্ব
  • ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা
  • শিক্ষক/শিক্ষিকা (এতে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক পদের যোগ্যতা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে)
  • বার্ষিক আয়
  • সংরক্ষিত তহবিল
  • সাধারণ তহবিল
  • পরিচালনা কমিটি
  • আনুষ্ঠানিকতা পূরণ

খ) বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকগণের চাকুরি ও ছুটিবিধি (1980 এর জানুয়ারীতে এই বিধিটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়)

বিধিটিতে মোট 29টি দারা সন্নিবেশিত আছে। প্রধান প্রধান ধারার বিষয়বস্তু নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ

  1. শিক্ষকের শ্রেণীবিন্যাস
  2. নিয়োগকারি কর্তৃপক্ষ
  3. শিক্ষানবিসী
  4. বেতন নির্ধারণ
  5. শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য

গ) The Board of Intermediate and Secondary Education, Dhaka( Managing Committee of Recognised Non Govt. Secondary Schools) Regulations, 1977.

এই পরিপত্রটি 8/6/2009 তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ নিয়ে বিরোধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত নিয়ম নীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার প্রবণতা হাজার হাজার মামলা মোকদ্দমার সৃষ্টি করেছে। এর ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ গঠন সম্পর্কে এস,আর,ও নং- 99/আইন/2009। Intermediate and secondary Education, 1961(E.P.No.XXX of 1961) এর Section 39 এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে উক্ত প্রবিধানমালার ব্যপক সংশোধন ও সংস্কার করে। এ সংক্রান্ত নতুন প্রবিধানমালা নিম্নে উপস্থাপন করা হলঃ






















 

 

 

 

সংগৃহীত ও সংকলিত

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প