বাংলাদেশের শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও ধারাসমূহ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন স্তর ও ধারা রযেছে। বয়সভেদে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্তরে লেখাপড়া করে থাকে। আবার প্রতিটি স্তরে রয়েছে একাধিক ধারা। প্রাক প্রাথমিক স্তরে সাধারণ ধারায় যেমন নার্সারী ও কিন্ডারগার্টেন এর অস্তিত্ব রযেছে, তেমনি ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে মক্তব এর ভুমিকা ও উল্লেখযোগ্য। সরকারি শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ছয় বৎসর থেকে এগারো বৎসরের শিশুদের নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে ও তিনটি ধারা রয়েছে, সাধারণত যা দেশীয় কারিকুলামে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজী ভার্সনে পড়ানো হয়ে থাকে। মাদ্রাসা শিক্ষায় এবতেদায়ী স্তরে ইসলাম ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে দেশীয় কারিকুলামে শিক্ষা প্রদান করা হয়। কিন্ডারগার্টেনসমূহে বিদেশী কারিকুলামে ইংরেজী মাধ্যমে শিক্ষাদান করা হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক স্তরে ও সাধারণ ধারায় এস.এস.সি, মাদ্রাসা ধারায় দাখিল ও ইংরেজী মাধ্যমে "ও" লেভেল সার্টিফিকেটের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের আওতায় বৃত্তিমূলক ও কারিগরী শিক্ষার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই বছর মেয়াদী উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ও সাধারণ ধারায় এইচএসসি, মাদ্রাসা ধারায় আলীম ও ইংরেজী মাধ্যমে "এ" লেভেল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কারিগরি ধারায় পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সমূহে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা বিজ্ঞান, কৃষিসহ বিভিন্ন ধারায় কারিগরি শিক্ষার প্রসারতা বাড়ছে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সাধারণ, কারিগরী ও মাদ্রাসা ধারার শিক্ষা রযেছে। সাধারণ ধারায় তিন বছর মেয়াদী স্নাতক ও চার বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে দুই বছর মেয়াদী ফাজিল ও দুই বছর মেয়াদী কামিল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। কারিগরী শিক্ষার ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদী স্নাতক প্রকৌশল, পাঁচবছর মেয়াদে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এম.বি.বি.এস ডিগ্রি, কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) সহ নানাবিধ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভের সুযোগ রযেছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত পেশাগত বিষয় যেমন: আইন, শিক্ষা, ক্রীড়া, নার্সিং, সামরিক বিজ্ঞানসহ নানান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও মেয়াদকালঃ

স্তর

শিক্ষার্থীর বয়স

শিক্ষার মেয়াদ

প্রাক-প্রাথমিক

৪-৬ বছর

২ বৎসর

প্রাথমিক

৬+ বছর

৫ বৎসর

মাধ্যমিক

১১+ বছর

৫ বৎসর

উচ্চ-মাধ্যমিক

-------

২ বৎসর

উচ্চ শিক্ষা

--------

৪-৬ বৎসর

বাংলাদেশে শিক্ষার বিভিন্ন ধারার পরিচিতি

প্রাথমিক

সাধারণ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশীয় কারিকুলামে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে প্রদত্ত প্রাথমিক শিক্ষা।

ধর্মীয়

প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের বিষয়বস্তু প্রাধান্য রেখে দেশীয় কারিকুলামে প্রদত্ত মাদ্রাসা শিক্ষা। 

ইংরেজী

কিন্ডারগার্টেন ভিত্তিক বিদেশি কারিকুলামে ইংরেজি মাধ্যমে প্রদত্ত প্রাথমিক শিক্ষা।

মাধ্যমিক

সাধারণ

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেশীয় কারিকুলামে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে প্রদত্ত মাধ্যমিক শিক্ষা।

অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে বাংলা মাধ্যমে প্রদত্ত মাধ্যমিক শিক্ষা। 

ধর্মীয় 

মাধ্যমিক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের বিষয়বস্তু প্রাধান্য রেখে দেশীয় কারিকুলামে প্রদত্ত মাদ্রাসা শিক্ষা।

ইংরেজি

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদেশি কারিকুলামে ইংরেজি মাধ্যমে প্রদত্ত শিক্ষা।

কারিগরি ও বৃত্তিমুলক

কারিগরি বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রদত্ত বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা।

উচ্চ-মাধ্যমিক

সাধারণ

উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়/কলেজে প্রদত্ত দেশীয় কারিকুলামে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে প্রদত্ত উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা।

অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে বাংলা মাধ্যমে প্রদত্ত উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা।

 

ধর্মীয়

উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের বিষয়বস্তু প্রাধান্য রেখে দেশীয় কারিকুলামে প্রদত্ত  মাদ্রাসা শিক্ষা।

ইংরেজি

উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদেশি কারিকুলামে ইংরেজি মাধ্যমে প্রদত্ত শিক্ষা।

 

কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা

কারিগরি বোর্ডের অধীনে উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রদত্ত বৃত্তিমূলক কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও কর্মমুখী শিক্ষা।

উচ্চশিক্ষা

সাধারণ শিক্ষা

সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রায়োগিক বিজ্ঞান, আইন ও চারু ও কারুকলাসহ নানা বিষয় এতে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা

ধর্ম সম্পর্কিত সাধারণ ও বিশেষ বিষয়াদি ধর্মীয় শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত

প্রযুক্তি শিক্ষা

কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, বস্ত্র, চামড়া, গ্লাস ও সিরামিক, তথ্য প্রযুক্তিসহ নতুন নতুন কারিগরী বিষয়ক শিক্ষা।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ

শিক্ষা ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা যা স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সংগৃহীত ও সংকলিত

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প