নিরলস পরিশ্রম করে সফল এক নারী লায়লাতুল ফেরদৌস পাতা

সংসারের অভাব দূর করতে নিরলস পরিশ্রম করে গ্রাম্য বধূ লায়লাতুল ফেরদৌস পাতা ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। পরিণত হয়েছে সফল একজন নারী উদ্যোক্তায়। বসত বাড়ির আশপাশে নিবিড় সবজি চাষ এবং গরু মোটাতাজাকরণ করে পাতা এলাকাবাসীকে রীতিমত অবাক করে দিয়েছেন। সেবাদানকারী সমিতির ক্ষুদ্র দলের গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভানেত্রী পাতার স্বামী আকুব্বর আলী পেশায় একজন শ্রমিক। দুই সন্তান নিয়ে দুর্মূল্যের বাজারে সংসারের চরম অভাব-অনটনের মাঝে রাইস মিলে ড্রাইভার স্বামীর সাহায্যে গৃহবধূ পাতা এগিয়ে আসেন।

লায়লাতুল ফেরদৌস পাতা বলেন, স্বামী কাজে বেরিয়ে গেলে ঘরে বসে না থেকে তিনি বসতবাড়ির ৫ কাঠা জমিতে শাক-সবজির চাষ শুরু করেন। লালশাক, পুঁইশাক, বেগুন, গোল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ চাষ করে বছরের চাহিদা পূরণের পরও বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়। ২০১০ সালে ঈশ্বরদী উপজেলা সেবাদানকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবান আলী লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ২৫ সদস্যের একটি দলে গরু মোটাতাজাকরণের প্রশিক্ষণ নেন। সমিতি গঠনের আগে বিচ্ছিন্ন ভাবে ১/২টি গরু পালন করতেন। তখন গরু পালন করে তেমন একটা লাভ হতো না। সমিতির মাধ্যমে গরু ক্রয় ও পালন করে ৩-৪ মাসের মধ্যেই গরু মোটাতাজা হয়ে যায়। এরপর ওই গরু বিক্রি করে বর্তমানে তারা সকলেই লাভবান হচ্ছেন। পাতা আরো বলেন, 'স্বামীর একার রোজগারের টাকায় সংসার চালানো খুব কষ্টের ছিল। এক সময় তাদের তিন বেলা খাবারও জুটতো না। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম ছেলে-মেয়ে দুইটিকে হয়তো আর স্কুলে পাঠানো হবে না; কিন্তু এক সময় মোটাতাজা গরু হাটে বিক্রি করে অনেক টাকা লাভ হয়। সেই থেকে খুলতে থাকে আমার ভাগ্যের চাকা। স্বামী এখনো ধানের মিলে ড্রাইভারী করেন। আর আমি গরু পালনে ব্যস্ত থাকি। এখন আমরা দুইজনই আয় করছি। সংসার বেশ ভালো ভাবেই চলছে।

বর্তমানে পাতা ৬ বিঘা জমি কট (লীজ) নিয়ে সেখানে ধান, রবি শস্য, সবজি চাষাবাদ করছে। খামার থেকে বছরে এক লাখ টাকারও বেশি আয় হয়। সহজ শর্তে এবং কম সুদে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার বেশি পরিমাণে ঋণের সুবিধা পেলে লায়লাতুল ফেরদৌস আবাদি জমির পরিমাণ এবং গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প আরো বিস্তৃত হবে। গৃহিণী থেকে লায়লাতুল ফেরদৌস এখন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা ও নারী কৃষক।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প