নারী শিক্ষার সুফল

বিভিন্ন গবেষনার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে যে কোন উন্নয়নে বিনিয়োগের তুলনায় নারী শিক্ষায় বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায়। শিক্ষিত মহিলা গৃহ, কর্মক্ষেত্রে, সমাজ ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করতে পারেন। গবেষনায় প্রাপ্ত মহিলাদের শিক্ষার কয়েকটি সুফল সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল:

  • বিশ্বব্যাংক পরিচালিত বিশ্বের ২০০ টি উন্নয়নশীল দেশে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, মহিলাদের শিক্ষা অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়ায়, প্রজনন হার হ্রাস করে, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমিয়ে এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আনয়ন করে।
  • মেয়েরা শিক্ষিত হলে ছেলেদের শিক্ষার তুলনায় পরিবারের আকার ছোট হওয়ার সম্ভবনা তিনগুন বৃদ্ধি পায়। কারন মেয়েরা শিক্ষিত হলে তাদের দেরিতে বিয়ে হয় এবং পরিবারের বাইরে বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা তৈরি হয়।
  • মেয়েরা শিক্ষিত হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহনের সুযোগ বাড়ে, যা প্রজনন ক্ষমতা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাসে সাহায্য করে।
  • শিক্ষিত মহিলাদের সন্তানদের মধ্যে সাক্ষরতার হার বেশি এবং তারা ছেলে ও মেয়ে সন্তানদের শিক্ষাকে সমানভাবে মূল্যায়ন করে।
  • মেয়েরা শিক্ষিত হলে আয় উপার্জনের দক্ষতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের প্রতি এক বছরের অতিরিক্ত বিদ্যালয় শিক্ষা তাদের আয় ১০-১২ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
  • শিক্ষিত মহিলা সহজে নতুন ধারনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সাড়া দেয়। ফলে নিরক্ষরদের তুলনায় তাদের জীবনের গুনগত মানোন্নয়ন বেশি হয়।
  • শিক্ষিত মহিলা জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহনে সমর্থ হয়।
  • শিক্ষিত মহিলারা তাদের মেয়ে সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে অধিক সচেতন হয় এবং শিক্ষিত মহিলাদের মেয়েরা নিরক্ষর মহিলাদের মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি স্কুলে যায়।
  • শিক্ষিত মহিলারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহনে অধিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মহিলারা শিক্ষিত হলে জীবন সম্পর্কে বেশি সচেতন হয় এবং পরিবারে ও সমাজে অধিক শিক্ষিত মহিলারা কম নির্যাতন ও বঞ্চনার স্বীকার হয়।

নারী শিক্ষার বংশ পরম্পরাগত সুবিধা

 

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প