চানাচুর তৈরির ব্যবসা

ভুমিকা
বাড়িতে বসে খুব সহজে চানাচুর তৈরির পর বাজারজাত করতে পারলে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। বেসনের সাথে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে চানাচুর তৈরি করা হয়। মুখরোচক এ খাবারটি সব বয়সের মানুষেরই খুব পছন্দের।
অল্প পুঁজির ব্যবসার মধ্যে চানাচুর তৈরির ব্যবসা অন্যতম। বাড়িতে বসে খুব সহজে চানাচুর তৈরির পর  বাজারজাত করতে পারলে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। বেসনের সাথে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে চানাচুর তৈরি করা হয়। মুখরোচক এ খাবারটি সব বয়সের  মানুষেরই খুবই পছন্দের ।

বাজার সম্ভাবনা
আমাদের দেশের মানুষ ঝালজাতীয় খাবার বেশি পছন্দ  করে। সেক্ষেত্রে চানাচুর একটি জনপ্রিয় খাবার। বিকালের নাস্তায় কিংবা অতিথি আপ্যায়নে শুধু চানাচুর বা মুড়ির সাথে মিশিয়ে চানাচুর খাওয়া হয়। আমাদের দেশে ছোট-বড় অনেক চানাচুর তৈরির কারখানা আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয় চাহিদার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।   অল্প পুঁজি নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। চানাচুর তৈরি করার পর সেগুলো-

  • খাবারের দোকানে সরবরাহ করা যেতে পারে।
  • নিজেই কোন দোকান দিয়ে সেখানে বিক্রি করা যেতে পারে ।
  • অনেক সময় ক্রেতা বাড়ীতে এসেই কিনে নিয়ে যেতে পারে।
  • নিজের তৈরি খাবারের প্রচার চালানোর জন্য প্রথমে প্রতিবেশীদেরকে জানানো যেতে পারে, স্থানীয় দোকানীর সাথে যোগাযোগ করা যায়।

মূলধন

আনুমানিক ১৫০০-২০০০ টাকা মূলধন নিয়ে চানাচুর তৈরি ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বড় আকারে চানাচুর তৈরি ব্যবসা শুরু করতে নিজের কাছে যদি প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তবে ঋণদানকারী ব্যাংক (সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক), সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (আশা, গ্রামীন ব্যাংক, প্রশিকা, ব্রাক) থেকে শর্ত সাপেক্ষে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে।

প্রশিক্ষণ

চানাচুর তৈরি শেখার জন্য তেমন কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তির কাছ থেকে বা রান্না বিষয়ক বই থেকে ধারণা নিয়ে চানাচুর তৈরি ব্যবসা শুরু করা যায়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান

স্থায়ী যন্ত্রপাতি

উপকরণ

পরিমাণ

আনুমানিক মূল্য (টাকা) 

প্রাপ্তিস্থান

কড়াই

১টি

২৫০-২৬০

তৈজসপত্রের দোকান

ডাইস

১টি

১৫০-১৬০

বানিয়ে নিতে হয়

গামলা

১টি

৫০-৬০

তৈজসপত্রের দোকান

ছিদ্রযুক্ত চামচ

১টি

৪০-৪৫

তৈজসপত্রের দোকান

ডালা

২টি

৬০-৬৫

বাঁশের পণ্যের দোকান

মোট=৫৫০-৫৯০ টাকা 

কাঁচামাল (১০ কেজি চানাচুর তৈরির জন্য)

উপকরণ

পরিমাণ

আনুমানিক মূল্য (টাকা) 

প্রাপ্তিস্থান

বেসন

৭ কেজি

৪২০-৪৩৪

মুদি দোকান

বাদাম

৭০০ গ্রাম

৩০-৩২

মুদি দোকান

মরিচের গুড়া

২০ গ্রাম

৮-১০

মুদি দোকান

লবণ

১ কেজি

১৬-১৮

মুদি দোকান

কালিজিরা

এক চিমটি

৫-৬

মুদি দোকান

বিট লবণ

১০০ গ্রাম

৪-৫

মুদি দোকান

জিরা গুড়া

২০ গ্রাম

১০-১২

মুদি দোকান

খাবার সোডা

এক চিমটি

২-৩

মুদি দোকান

তেল

৩ কেজি

২৩৪-২৪০

মুদি দোকান

মোট=৭২৯-৭৬০ টাকা 

চানাচুর তৈরির নিয়ম

ধাপে ধাপে চানাচুর তৈরির কাজ করতে হবে।

১ম ধাপ

বেসন, খাবার সোডা, লবণ, তেল ও পানি মেপে নিতে হবে। বেসন, খাবার সোডা, লবণ ও তেল গামলায় নিয়ে ভালভাবে মিশাতে হবে। এরপর এর সাথে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে রুটির আটার মতো মন্ড তৈরি করতে হবে। চুলার উপর কড়াই বসিয়ে তেল ঢেলে গরম করে নিতে হবে।

২য় ধাপ

 কড়াইয়ের উপর ডাইস বসিয়ে ডাইসের উপর মন্ড নিয়ে  পরিষ্কার হাত দিয়ে ঘষতে হবে। ডাইসের ছিদ্র দিয়ে গামলায় মোটা ঝুরি পড়বে। গামলা থেকে মোটা ঝুরি নিয়ে কড়াইয়ের গরম তেলে ভাজতে হবে। অল্প আচেঁ ঝুরিগুলো ভেজে তুলে রাখতে হবে।

৩য় ধাপ

এবার বাদামের দানাগুলো ভেজে নিতে হবে। ভাজা শেষে গামলায় তুলে রাখতে হবে এবং চানাচুর, বাদাম ও মসলাগুলো একসাথে মিশিয়ে পরিমাণমতো মেপে প্যাকেট করতে হবে।

সাবধানতা

  • চানাচুর তৈরিকারীকে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কাজের শুরুতেই সাবান দিয়ে হাত ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • তৈরি চানাচুর মচমচে রাখার জন্য বায়শূন্য বয়াম বা পলিথিনের প্যাকেট রাখতে হবে।

আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ

খরচ (১০ কেজিতে)

কাঁচামাল বাবদ

৭২৯-৭৬০ টাকা

জ্বালানী

৪০-৪২ টাকা

স্থায়ী যন্ত্রপাতির অবচয় (ক্ষতি) বাবদ

৩-৪ টাকা

মোট=৭৭২-৮০৬ টাকা

আয়

১ কেজি চানাচুর বিক্রি হয় 

৯০-৯৫টাকা

১০ কেজি চানাচুর বিক্রি হয় 

৯০০-৯৫০ টাকা

লাভ

১০ কেজি চানাচুর বিক্রি হয়  

৯০০-৯৫০ টাকা

১০ কেজি চানাচুর খরচ 

৭৭২-৮০৬ টাকা

লাভ =১২৮-১৪৪ টাকা 

(তবে সময় ও স্থান ভেদে লাভ কম বেশী হতে পারে)

চানাচুর তৈরি করে খুব সহজেই এ ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। সারাবছরই চানাচুরের চাহিদা থাকে তাই এ ব্যবসা মোটামুটি লাভজনক। কম পুঁজি নিয়ে নারী-পুরুষ যে কেউ চানাচুর তৈরির ব্যবসা করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারেন।

 

 

 

 

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প