কাপড় সেলাই/ দর্জি

সাধারণ ভাবে পোশাক বলতে সেলাই করা কাপড়কেই বুঝানো হয়ে থাকে। বর্তমানে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সৌখিন নারী-পুরুষেরা বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় পরার প্রতি আগ্রহী। তাই পোশাক কেনার পাশাপাশি তারা দর্জির কাছ থেকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মাপ ও ডিজাইন দিয়ে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করে নেয়। এ কারণে কাপড় সেলাই বা দর্জির চাহিদা সব সময়ই থাকে। কাপড় সেলাই শুরুর আগে দক্ষতা অর্জন করা অবশ্যই প্রয়োজন। তাই কাপড় কাটা ও সেলাইয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
পোশাক/বস্ত্র হচ্ছে আমাদের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম। আমরা যে সব পোশাক পরিধান করি, তার বেশির ভাগই কেটে সেলাই করা। সাধারণভাবে পোশাক বলতে সেলাই করা কাপড়কেই বুঝানো হয়ে থাকে। বর্তমানে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সৌখিন নারী-পুরুষেরা বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় পরার প্রতি আগ্রহী। তাই পোশাক কেনার পাশাপাশি তারা দর্জির কাছ থেকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মাপ ও ডিজাইন দিয়ে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করে নেয়। এ কারণে কাপড় সেলাই বা দর্জির চাহিদা সব সময়ই থাকে। পোশাক তৈরি একটা শিল্প এবং এই পেশায় নিয়োজিত শিল্পীদেরকে দর্জি বলা হয়। আমাদের দেশে অন্যান্য বড় শিল্পের মধ্যে পোষাক শিল্প অন্যতম।

বাজার সম্ভাবনা
অন্যের অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে দিয়ে তার বিনিময়ে মজুরি নেওয়া যায়। এছাড়া তৈরি পোশাক বিক্রয় করেও আয় করা যায়। আমাদের দেশে অন্যান্য বড় শিল্পের মধ্যে পোষাক শিল্প অন্যতম। পোশাক তৈরির কৌশল শেখার মাধ্যমে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করে আয় করা সম্ভব।

মূলধন
কাপড় সেলাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় স্থায়ী উপকরণ কিনতে আনুমানিক ৫১২৫-৫৪৯২ টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কাপড় সেলাইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে কাঁচামাল কেনার জন্য ৩১ থেকে ৩৯ টাকার প্রয়োজন হবে। দোকান করতে ঘর ভাড়া নেওয়ার জন্য আলাদা টাকার প্রয়োজন হবে। দোকান ঘরের ভাড়া স্থানভেদে কম বেশি হয়। যদি ব্যক্তিগত পূঁজি না থাকে তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকট আত্মীয়স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক(সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক , রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, প্রশিকা) সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।

প্রশিক্ষণ
কাপড় সেলাই শুরুর আগে দক্ষতা অর্জন করা অবশ্যই প্রয়োজন। তাই কাপড় কাটা ও সেলাইয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। অভিজ্ঞ কারও সহকারী হিসেবে কিছুদিন কাজ করার মধ্য দিয়েও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব। এছাড়া বিসিক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সেলাই প্রশিক্ষণ শাখায় যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব।
 

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান

স্থায়ী উপকরণ 

উপকরণ

পরিমাণ

আনুমানিক মূল্য (টাকা)

প্রাপ্তিস্থান

সেলাই মেশিন (পা চালিত)

১টা

৪৫০০-৪৮০০

সেলাই মেশিন বিক্রয়ের শোরুম

কাঁচি

১টা

৯০-১০০

সুতা বোতামের দোকান

গজ ফিতা

১টা

১০-১২

সুতা বোতামের দোকান

সেপ স্কেল

১টা

২৫-৩০

সুতা বোতামের দোকান

ইস্ত্রি

১টা

৫০০-৫৫০

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দোকান

মোট=৫১২৫-৫৪৯২ টাকা

কাঁচামাল (৫ সেট সালোয়ার কামিজ তৈরির জন্য)

উপকরণ

পরিমাণ

আনুমানিক মূল্য (টাকা)

প্রাপ্তিস্থান

সুতা

২টা কাটিম

৮-১০

সুতা বোতামের দোকান

সুচ

৬টি

৮-১০

সুতা বোতামের দোকান

বোতাম বা হুক

এক প্যাকেট

১০-১২

সুতা বোতামের দোকান

টেইলার্স চক

একটি

৫-৭

সুতা বোতামের দোকান

মোট=৩১-৩৯ টাকা

কাপড় সেলাইয়ের নিয়ম

১. কাপড় সেলাইয়ের আগে জরুরি কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে।

ক. সঠিকভাবে মাপ নেওয়া ও

খ. মাপ মতো কাপড় কাটা।

কাপড় কাটার জন্য মাপের হিসাব জানতে হবে। যেমন-কাপড়ের লম্বা ও চওড়া মাপার জন্য মিটার গজ, ফুট, ইঞ্চি ও গিরা ব্যবহার করা হয়। মাপ নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে কোন কোন অংশের মাপ নিতে হবে।

২. কাপড় সেলাই করার আগে প্রথমে যে পোশাক তৈরি করা হবে তার মাপ জানতে হবে। তারপর সেই মাপ অনুযায়ী কাপড়ে রঙিন চক দিয়ে দাগ দিতে হবে। কাপড় মেপে দাগ দেওয়ার সময় কিছু কাপড় বেশি রাখতে হয়। সেটা সেলাই এর ভেতরে থাকে। কোন পোশাকের জন্য কতটুকু কাপড় বেশি কাটতে হবে তা নির্ভর করে পোশাকের ধরণের উপর।

৩. কাপড় মেপে দাগ দেওয়ার পর কাপড় কাটতে হবে।

৪. তারপর সেই মাপ অনুযায়ী কাপড় সেলাই করতে হবে। পোশাকের অনেক জায়গায় জোড়া দিতে হবে। আবার অনেক জায়গায় ভাঁজ করে সেলাই করতে হবে।

৫. সেলাই করা হলে সেলাই এর জায়গাগুলো ইস্ত্রি করে সমান করতে হবে।

সাবধানতা

  • সঠিকভাবে মাপ নিতে হবে এবং কাপড় কাটতে হবে।
  • কাপড় নিখুঁতভাবে সেলাই করতে হবে।

 

আয় ও লাভের হিসাব

মোট খরচ 

৫ সেট সালোয়ার কামিজ তৈরি করতে কাঁচামাল বাবদ খরচ 

৩১-৩৯ টাকা 

স্থায়ী জিনিসের অবচয় (ক্ষতি) বাবদ খরচ          

১০-১৫ টাকা

যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ

৮০-১০০ টাকা

৫ সেট সালোয়ার কামিজ তৈরি করতে মোট খরচ

১২১-১৫৪ টাকা

আয় ও লাভের পরিমাণ 

প্রতিসেট সালোয়ার কামিজ এর মজুরি ১০০-১১০ টাকা হলে,

৫ সেট সালোয়ার কামিজ তৈরি করে মজুরি নেওয়া যাবে 

৫০০-৫৫০ টাকা 

৫ সেট সালোয়ার কামিজ তৈরি করতে কাঁচামাল ও অন্যান্য খরচ

১২১-১৫৪ টাকা

৫ সেট সালোয়ার কামিজ বিক্রয় করে মোট লাভ

৩৭৯-৩৯৬ টাকা

এছাড়া বিনিয়োগ ও বিক্রয়ের উপর লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে। অনেক সময় জিনিসপত্রের দাম উঠানামা করে। তাই এ ক্ষেত্রে হিসাব শুধুমাত্র ধারণা দেওয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

এভাবে ১০ সেট সালোয়ার কামিজ তৈরি করলে দ্বিগুণ লাভ হবে। যত বেশি কাপড় সেলাই করা যাবে তত বেশি মজুরি পাওয়া যাবে এবং বেশি লাভ হবে।

কেস স্টাডি:

দর্জির কাজে সচ্ছলতার ভিত আর্জিনার

জীবন থেমে থাকে না। আর সে জীবনের চাকা সচল রাখতে অবিরাম সেলাই মেশিনের চাকা ঘোরাচ্ছেন আর্জিনা বেগম। ‘পরিশ্রম করলেই ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব তারই প্রমাণ দিলেন আর্জিনা বেগম। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের আর্জিনা বেগম দর্জির কাজ করেই সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। তার সেলাই মেশিনের কাজে সহযোগিতা করছেন স্বামী মিয়াজ উদ্দিন। আর্জিনার একাগ্রতা, পরিশ্রম আর প্রতিভা দেখে প্রতিবেশী অনেক মহিলাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তার কাছে। এক সময় সংসারে অভাব-অনটন লেগেই ছিল। বর্তমানে আরডিআরএস এবং বিআরডিবি থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এখন স্বাবলম্বী।কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে সব কিছু বিলীন হয়ে নিঃস্ব হয়েছিলেন আর্জিনা। বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই রক্ষা পায়নি রাক্ষসী ধরলার ভাঙনে। তবুও স্বপ্ন ছিল তার স্বাবলম্বী হওয়ার। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত আর ভালোভাবে খাওয়ানোর স্বপ্ন ছিল আর্জিনার। উপজেলা বিআরডিবির অধীনে উত্তরাঞ্চলে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু হয়। এর মাধ্যমে মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণের তালিকায় ২০১০ সালে আর্জিনা নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। সেখানে ৬ মাস দক্ষতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একটি সেলাই মেশিনও বিনামূল্যে পান আর্জিনা। প্রথমে বাড়িতে বসে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করেন। পরে বসতঘরের এক পাশে দর্জির দোকান খোলেন তিনি। কাজের মান ভালো হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যেই এলাকায় সাড়া ফেলেন তিনি। কিন্তু পুঁজির অভাব তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কিছুটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এমন সময় তার পাশে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ঋণ দেয় আরডিআরএস এবং বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ। স্বল্পসুদে ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কাপড় কিনে ঘরে বসেই বিভিন্ন ডিজাইনের তৈরি পোশাকগুলো স্বামীর মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি শুরু করেন। তার তৈরি পোশাকের ডিজাইন দেখে গ্রামের মানুষ স্বল্পমূল্যে ক্রয় করতে থাকে। ভালো মানের পোশক কম মূল্যে পাওয়া যায়, অল্পদিনের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের গ্রামের নারী-পুরুষ এসে তার কাছ থেকেই তৈরি পোশাক নিতে থাকলে ধীরে ধীরে তার ব্যবসার প্রসার ঘটে।

আর্জিনা জানান, বর্তমানে তার সুখের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেটি ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে লেখাপড়া করছে আর মেয়েটি তৃতীয় শ্রেণীতে। আর্জিনা বেগম দর্জির দোকানে সেলাইর কাজ করে এরই মধ্যে ৪টি গরুর মালিক ও তিন বিঘা জমি বন্ধক নিয়েছেন। ভবিষ্যতে সরকারি বেসরকারি সংস্থা থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ পেলে বাজারে বড় করে দর্জির দোকান দিয়ে পল্লী অঞ্চলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান আর্জিনা বেগম। পাশাপাশি গ্রামের বেকার কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাতেও সহয়তা করবেন বলে তিনি জানান।

আত্মপ্রত্যয়ী কমলা
দর্জির কাজ করে সংসারে সফলতা এনেছেন কমলা। প্রথম দিকে দর্জির সামান্য কাজ পারলেও পরবর্তী সময়ে দক্ষতা বাড়াতে গ্রহণ করেন প্রশিক্ষণ। তারপর টাঙ্গাইলের সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের টাকা দিয়ে মেশিন কিনে শুরু করেন দর্জির কাজ। ধীরে ধীরে ক্রেতা বাড়তে থাকে। বাড়ে কাজের পরিধিও। বর্তমানে কমলার মাসিক আয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এই কাজ করেই সহায়-সম্বলহীন কমলার হয়েছে জীবনধারণ করার মতো সম্বল। কমলা আক্তার বলেন, ‘আগে অনেক কিছুই বুঝতাম না। এহন অনেক কিছুই বুঝি। সুলতানা আপা আর সিরাজী ভাই ট্রেনিংয়ে নিয়া আমগোর চোখ খুইলা দিছে। এহন বুঝি স্বামীর ওপর নির্ভর কইরা বাঁচাডা সম্মানের না। বরং আয় করতে পারলে স্বামী ও পরিবারের সবার কাছে সম্মানের সঙ্গে বাঁচা যায়। আশপাশের মাইনষেরাও সম্মান করে। সালিশ দরবারেও ডাকে।টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার বড়বাজুপাড়ার মৃত রফিজ উদ্দিন ও দুধজান দম্পতির মেয়ে কমলা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে একই গ্রামের শাজাহান মিয়ার ছেলে মোঃ স্বপনের সঙ্গে বিয়ে হয় কমলার। কমলার স্বামী আনসার বাহিনীতে খুবই ছোট একটা পদে চাকরি করেন। বেতন মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। স্বামীর অল্প আয় দিয়ে এক ছেলে নিয়ে কোনমতে দিনযাপন করছিলেন কমলা। স্বচ্ছলতার কথা কোনোদিন ভাবেননি। ভাবনায় ছিল স্বামীর আয়ে ডাল-ভাত যা জোটে, তা দিয়েই কাটিয়ে দেবেন জীবনটা। টাঙ্গাইল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার দলীয় সদস্য কমলা।
কমলা জানান, দলীয় সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘নারী-পুরুষ সম্পর্ক : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি’ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন তিনি। প্রশিক্ষণ তার মনের দুয়ারকে খুলে দেয়। মনের ভেতরে বাসনা জাগে পরিবারকে সচ্ছল করার, পরিবারে নিজের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করার। কারণ প্রশিক্ষণ তাকে শিখিয়েছে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব। তিনি জেনেছেন স্বাবলম্বিতা নারীকে পরিবারে ও সমাজে মর্যাদার আসনে নিয়ে যায়। প্রশিক্ষণ নেয়ার আগে কমলা দর্জির কাজ শিখেছিলেন। কাজ শিখে ঘরে বসে নিজেদের কাপড় তৈরি করতেন। কিন্তু এটাকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগানোর চিন্তা কখনোই করেননি। কমলা সিদ্ধান্ত নেন অন্য কোনো ব্যবসায় না গিয়ে যেহেতু প্রশিক্ষণ আছে তাই দর্জির কাজ করবেন। ভালো কাজ করতে পারলে পাড়া থেকেই তার ক্রেতা তৈরি হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাঙ্গাইল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা দিয়ে মেশিন কিনে শুরু করেন দর্জির কাজ। ধীরে ধীরে ক্রেতা বাড়তে থাকে। এ কাজ থেকে কমলার মাসিক আয় আসে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
এদিকে কমলার স্বামী গ্রাউরি প্রকল্পের কয়েকটি উঠান বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে উঠান বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘সংসারের সচ্ছলতা বাড়াতে বাড়িতে বসে কমলা দর্জির কাজের পাশাপাশি অন্য কোনো কাজও করতে পারে। তাই দু’জনে মিলে পরামর্শ করে বাড়ির ওপর মনোহারী দোকান করার সিদ্ধান্ত নেন। দোকানের প্রথম মালপত্র কিনতে দু’জনে মিলে যান কালোহা বাজারে। সেখান থেকে মালপত্র কিনে স্বপন কমলাকে পাইকারি দোকানদারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসেন। বাড়িতে নিজের থাকার ঘরের একপাশে তৈরি করেন মনোহারী দোকান।’
কমলা এখন বাজারে গিয়ে নিজেই মালপত্র কিনে নিয়ে আসেন। আশপাশে কোনো দোকান না থাকায় খুব ভালো বেচাকেনা হয় কমলার দোকানে। তার মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। বর্তমান পুঁজির পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার ওপরে।
প্রসঙ্গত কমলা বড়বাজুপাড়া ঝটিকা মহিলা সমিতির সভাপতি এবং পাইকড়া ইউনিয়নের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফোরামের সদস্য। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নির্ভীক কণ্ঠে বলেন নারী অধিকারের কথা। কমলার মতে প্রতিটি নারীর উচিত আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকা। অন্যের ওপর নির্ভর করে কখনও মর্যাদা নিয়ে বাঁচা যায় না।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প