কাপড় এবং কাগজের শপিং ব্যাগ তৈরি

সম্ভাব্য পুঁজি:
৫০০০০ টাকা থেকে ১০০০০০ টাকা পর্যন্ত
সম্ভাব্য লাভ:    
মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
যা প্রয়োজন:    
কাপড়, কাগজ, সুতা, রিপিট, জিপার, ফিতা, ফাইবার ও স্ক্রিন প্রিন্ট, সেলাই মেশিন, আঠা ইত্যাদি।
প্রস্তুত প্রণালি:    
প্রয়োজনীয় মাপে কাপড় কেটে নিয়ে সেলাই করলেই তৈরি হয় ব্যাগ। আর  কাগজ কেটে আঠা লাগিয়ে নিলেই তৈরি হয় কাগজের ব্যাগ। ব্যাগের সৌন্দর্য বাড়াতে স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ করা হয়। কাপড়ের ব্যাগে জিপার দেওয়া হয়। কাগজের ব্যাগের ওপরে হাতল রাখা হয় ভোক্তার সুবিধার জন্য।
বাজারজাতকরণ:
মার্কেটের দোকান, বাজারের দোকান, চকবাজারে পাইকারিভাবে এ ব্যাগ বিক্রি হয়। তা ছাড়া যেকোনো মার্কেটের সামনে এই ব্যাগের বিক্রি ভালো হয়।
যোগ্যতা:    
বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। দু-এক দিন প্রশিক্ষণ নিলেই ব্যাগ তৈরি করা যায়।
কেস স্টাডি:
শপিং ব্যাগ বানিয়ে স্বাবলম্বী সাবিনা
 উদ্যোম ও সাহস কঠিন কাজকে অনেক সময় সহজ করে তোলে। ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য পরিশ্রমের কাছে ধরা দেয় সফলতা, হার মানে দারিদ্র্য। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যশোরের কেশবপুরের হাবাসপোল গ্রামের ইজাজুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা বেগম। স্বামী, ছেলেমেয়ে ও শ্বশুর, শাশুড়ি, নিয়ে ছয় সদস্যের সংসার সাবিনা বেগমের। বাস্তুভিটার দুই শতক জমি ছাড়া তার আর কিছুই নেই। স্বামীর একা আয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না। অভাব-অনটন যেন পরিবারের জীবন্ত আরেক সদস্য। নিরুপায় সাবিনা বেগম ভাবতে থাকেন কিভাবে সংসারে সচ্ছলতা আনা যায়।ছোটবেলা থেকেই হাতের কাজ শেখার নেশা ছিল সাবিনা বেগমের। সেই হাতের কাজকেই পুঁজি করে জীবন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। এমন সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় এনজিও সংস্থা কৈননীয়ার ফিল্ড অফিসার পুলিন সি ভাবুকের সঙ্গে। সাবিনা বেগম তার কাছে জানতে পারেন সংসারের কাজের পাশাপাশি অল্প পুঁজিতে স্বল্প সময়ে শপিং ব্যাগের কাজ করে মাসে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। একথা জানতে পেরে তিনি কৈননীয়ার হাবাসপোল মহিলা সমিতির সদস্য হয়ে যান। গত বছরের জুন মাসে সাবিনা বেগম কৈননীয়া থেকে শপিং ব্যাগ তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ শেষে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন শপিং ব্যাগ তৈরির কাজ। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।সাবিনা বেগম জানান, আটা, ময়দা, তুঁতে, ছিদ্র করার জন্য পাঞ্চ মেশিন, রেপিট লাগানোর জন্য রড মেশিনসহ মাত্র ৫০০ টাকার উপকরণ কিনলেই শপিং ব্যাগের কাজ করা যায়। তার স্বামী ইজাজুল ইসলাম কেশবপুর শহর থেকে কাগজ নিয়ে আসেন বাড়িতে। এই কাগজেই সংসারের কাজ শেষে ঘরের বারান্দায় বসে শপিং ব্যাগের কাজ শুরু করেন। তিনি তিন টাকা থেকে ১৫ টাকা দামের শপিং ব্যাগ তৈরি করেন। তৈরি করা একটি ব্যাগ তিনি ২ থেকে ৩ টাকা লাভে বিক্রি করে থাকেন। তার স্বামী কেশবপুর, মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন দোকানের অর্ডার নিয়ে আসেন। এতে তিনি প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় করে থাকেন। তার এ পেশায় উত্তরোত্তর উন্নতি দেখে এলাকার অনেকেই এ পেশায় মনোনিবেশ করছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বিকালে বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র মহিলারা তার কাছে আসে শপিং ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ নিতে। তিন থেকে পাঁচ দিন প্রশিক্ষণ নিলেই একজন দক্ষ শ্রমিক হওয়া যায়। তার কাছ থেকে নাজমা বেগম, পূর্ণিমা রানী, লিলিমা বেগম, মেরিনা বেগমসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মহিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। বর্তমানে তারা এ কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সাবিনা বেগমের স্বামী ইজাজুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন ট্রাক শ্রমিক। গাড়িতে যখন কাজ না থাকত তখন বাড়িতে বসে তার স্ত্রীর শপিং ব্যাগ তৈরির কাজে সহযোগিতা করতেন। পরবর্তী সময়ে এ কাজ লাভজনক হওয়ায় তিনি ট্রাক শ্রমিকের কাজ বাদ দিয়ে এ পেশায় ফিরে এসেছেন। সাবিনার তৈরি ব্যাগের গুণগতমান খুবই ভালো। উপজেলাব্যাপী রয়েছে সুনাম। তাই দিন দিন অর্ডারের পরিমাণও বাড়ছে। সংসারে তার আর কোনো অভাব নেই।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প