বীজ উৎপাদন কৌশল

বীজ উৎপাদন কৌশল:

কোনো উর্বর ফসলি জমিতে যদি বীজ ব্যতীত সব উপকরণ পরিমিত পরিমাণ প্রয়োগ করা হয় তাহলে কোনো ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আবার অন্যান্য উপকরণ বাদ দিয়েও যদি শুধু বীজ বপন করা হয় তাহলে কিছু না কিছু ফলন আসবেই। এ যাবত আমাদের দেশে সব ফসল মিলিয়ে ১০-১২% মানসম্মত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে। এখনো আমাদের অনেক পথ পেরুতে হবে। সেজন্য মানসম্মত বীজ উৎপাদন কৌশলে অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। ফসল উৎপাদন আর বীজ উৎপাদন এক নয়। বীজ উৎপাদনে বিশেষ কিছু সতর্কতা আর কৌশল অবলম্বন করতে হয়। তা না হলে মানসম্মত বীজ উৎপাদন সম্ভব নয়। মানসম্মত বীজ উৎপাদনে যেসব বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে সেগুলো হলো:-

০১. ভালোজাতের মানসম্মত রোগমুক্ত বীজের ব্যবহার;

০২. বীজ বপনের আগে বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করে নিয়ে বীজের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ;

০৩. সময়মতো আদর্শ বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন;

০৪. বীজতলার যত্নসেবা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা;

০৫. উপযুক্ত বয়সে যত্নের সাথে বীজতলা থেকে চারা উঠানো;

০৬. ভালোভাবে মূলজমি তৈরি করে, সময়মতো রোপণ;

০৭. রোপণের পর যাবতীয় ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করা;

০৮. আন্তঃপরিচর্যা নিয়মিত করা;

০৯. চারা রোপণের পর ৪০ দিন পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখা;

১০. সারের উপরিপ্রয়োগ সময়মতো করা;

১১. সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা;

১২. সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা;

১৩. স্বতন্ত্রীকরণ দূরত্ব বজায় রাখা (জমি থেকে জমি কমপক্ষে ১ মিটার)

১৪. ফসলের পুরো জীবনকালে কমপক্ষে ৩ বার রগিং (বিজাত) বাছাই করা;

১৫. ফসল ৮০% পাকলে কাটার ব্যবস্থা করা, পুরো জমির মধ্যে সবচেয়ে ভালো অংশ বীজের জন্য নির্বাচন করা;

১৬. রৌদ্রউজ্জ্বল দিনে কাটতে হবে;

১৭. কাটার পর পাকা হোক কিংবা গোবর লেপে হোক অথবা মোটা পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর ধান মাড়াই করা। ধান মাড়াই করার ক্ষেত্রে একটি ভালো পদ্ধতি হলো ধানের গোছা নিয়ে আড়াইবাড়ি অর্থাৎ জোরে জোরে ২ বাড়ি এবং আস্তে ১ বারি দিলে যে পরিমাণ ধান পড়বে সেগুলোই মানসম্মত পরিপক্ব বলে গণ্য করা হয়। গোছার বাকি ধান পিটিয়ে বা গরু/মহিষ দিয়ে মাড়িয়ে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু এগুলো বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে;

১৮. মাড়াইয়ের পর পাকা ফ্লোরে বা গোবর লেপা ফ্লোরে বা পাটি/চাটাই/হোগলা/মোটা পলিথিন দিয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে;

১৯. ভালোভাবে শুকানোর পর ঠান্ডা  করে সংরক্ষণ করতে হবে। বীজের আর্দ্রতা ১০-১২% থাকা দরকার। আর্দ্রতামাপক যন্ত্র দিয়ে আর্দ্রতা মাপা যায় কিন্তু গ্রামীণ পরিবেশে এ সুযোগ নেই। সেজন্য দাঁতের মাঝে দিয়ে কটকট শব্দ করলে বা বৃদ্ধ আঙ্গুল ও তর্জনীর মাঝে ধরে কানের কাছে নিয়ে চাপ দিলে কট করে আওয়াজ হয়। এতে বুঝতে হবে ধান সংরক্ষণ করার উপযোগী হয়েছে;

২০. বীজ ঠান্ডা  হওয়ার পর ভালোভাবে আধুনিক লাগসই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। মোটকথা বীজ থেকে বীজ এ পুরো প্রক্রিয়ায় বিশেষ কৌশল পদ্ধতি প্রযুক্তি অনুসরণ করলে মানসম্মত বীজ উৎপাদন সম্ভব। আর তখনই পুরো দেশের অধিক উৎপাদন কৌশলে মানসম্মত বীজ উৎপাদন সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প